Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ০১ মার্চ, ২০২৪,

বছরজুড়েই আদালতে ছিল উত্তাপ

শরিফ রুবেল

ডিসেম্বর ২৭, ২০২২, ০১:০২ এএম


বছরজুড়েই আদালতে ছিল উত্তাপ
  • এমপি গেছেন জেলে
  • কে হবেন জাপার প্রধান সিদ্ধান্ত আদালতে
  • জায়েদ-নিপুণে ব্যস্ত ছিল আদালতপাড়া 
  • আদালতে এসে ক্ষমা চেয়েছেন ইউএনও-ডিসি
  • কেড়ে নেয়া হয়েছে বিচারিক ক্ষমতা 
  • এসেছে বেশকিছু আলোচিত মামলার রায়
     

চলে যাচ্ছে ২০২২। বিচারাঙ্গনে ঘটেছে অনেক আলোচিত ঘটনা। এসব ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কারো চেয়ার নিয়ে টানাটানি গড়িয়েছে আদালতে। কেউ আবার আদালতে এসে চেয়ার ফিরে পেয়েছেন।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে যেতে হয়েছে সংসদ সদস্যকেও। আদালত চত্বর থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আদালতের অবস্থান ছিল কঠোর। মহিষ নিয়ে জামাই-শ্বশুরের দ্বন্দ্ব গড়ায় হাইকোর্টে। আদালতে দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে বিএনপি নেতাদের।

গেল বছরের তুলনায় আইন-আদালতে এবার উত্তাপ একটু বেশিই ছিল। ফলে উচ্চ আদালতের দিকে দৃষ্টি ছিল দেশবাসীর। আদালত থেকে কখন কি আদেশ বা নির্দেশ আসে সে বিষয়েও নজর রেখেছিল সবাই। বছরজুড়েই আলোচিত রিট, মামলা ও রায়ের নির্দেশ আসে। অনেক বঞ্চিতরাই আদালতে অধিকার ফিরে পেয়েছে। দেশের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া অনিয়মের বিষয়ে উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়েই দিয়েছেন নানা আদেশ।

আবার আদালতেই অনেকে একাধিকবার জামিন চেয়েও পাননি। রাজনৈতিক বিবেচনার মামলাগুলোয় আসামিরা দলবেঁধে জামিন নিতে আদালতে এসেছেন। জামিন পেয়ে হাসিমুখে ফিরেছেন আদালত থেকে। কেউ কেউ আবার জামিন না পেয়ে আদালতের প্রতি ক্ষোভ ঝেরেছেন। সবমিলিয়ে ২০২২ সালে আদালত পাড়ায় বিচারপ্রার্থীদের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির ধারা ছিল চোখে পড়ার মতো।  

অভিমানেই ফিরলেন না বিচারপতি ইমান আলী : সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ১৫ ডিসেম্বর শেষ দিনের মতো অফিস করেছেন। এদিন সকালে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আসেন। তবে আপিল বিভাগের বিচারকাজে অংশগ্রহণ করেননি। যদিও আপিল বিভাগের মূল কার্যতালিকায় প্রধান বিচারপতির নামের পরই বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নাম ছিল। তবুও তিনি ফেরেননি নিজ বিচারালয়ে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তিনি অবসরে যাবেন। 

সুপ্রিম কোর্টেরআইনজীবীরা বলছেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা মানা হয়নি। এজন্যই হয়তো তিনি অভিমান করে আর বিচারকাজে বসেননি। আদালতেও আসেননি।  ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে। একদিন পরই ৩১ ডিসেম্বর থেকে স্বেচ্ছায় ছুটিতে যান জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। সে ছুটির মেয়াদ ছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনরায় বর্ধিত ছুটি চেয়ে গত ২৮ মার্চ প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন। আবেদনে লন্ডনে থাকা বৃদ্ধ মায়ের সাথে ছুটিকালীন সময় কাটানোর কথা উল্লেখ করা হয়। পরে ওই ছুটির আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে তা মঞ্জুর করা হয়। এরপর আর তিনি ফেরেননি।    

জাপার চেয়ার নিয়ে টানাটানি গড়াল আদালতে : জাপার এক নেতার আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টির বিষয়ে জিএম কাদের কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না এই মর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে মিস আপিল করেন জিএম কাদের। পরে হাইকোর্টে রিভিশন করেন জি এম কাদের। পরে ২৯ নভেম্বর শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৩০ অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে রুল জারি করেন। এরপর জিয়াউল হক মৃধা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন।

গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বারজজ আদালত। একই সঙ্গে আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় এটি আপিল বিভাগে শুনানি হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জিএম কাদের) দায়িত্ব পালন নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বাতিল করে চেম্বারজজ আদালতের আদেশ বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সঙ্গে সঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন নিষ্পত্তিও করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে জিএম কাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

ওয়াসা এমডির বেতন-ভাতার তথ্য দিতেই হবে : নিয়োগের পর থেকে গত ১৩ বছরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ খানের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। গত ১৭ আগস্ট ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে তাকসিম এ খানকে গত ১৩ বছরে কী পরিমাণ বেতন-ভাতা ও টিএডিএসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়া হয়েছে, সে তথ্য জানতে চান হাইকোর্ট। প্রতিবেদন আকারে ৬০ দিনের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা বোর্ড চেয়ারম্যানকে ওই সব তথ্য আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

আদালত থেকে জঙ্গি ছিনতাই : ঢাকার আদালতপাড়া থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই সদস্য তাদের সহযোগীদের সহায়তায় পুলিশের চেখে স্প্রে ছিটিয়ে পালিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গি জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দুই জঙ্গির নাম মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব।  এসময় আনসারের দুই সদস্য ও কয়েকজন পথচারী আহত হয়েছেন। তাদের ধরতে সারা দেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। দেশের সবকটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হয়। এদিকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ধরতে পুলিশ সদর দপ্তর জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেও তাদের ধরা সম্ভব হয়নি।

ঊর্ধ্বতনদের দুর্নীতি সবার আগে তদন্তের নির্দেশ : পাঁচ হাজার টাকার অতিসাধারণ দুর্নীতির পেছনে জনগণের লাখ লাখ টাকা ব্যয় না করে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের তালিকায় ১ থেকে ২৫ নম্বরে থাকা (উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি) সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে তা আগে অনুসন্ধান এবং তদন্ত করতে বলেছেন। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে এটি এই আদালতের কাছে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, দুদক হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকার অতিসাধারণ দুর্নীতির পেছনে জনগণের লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছে। পত্রপত্রিকায় এটি দেখা যাচ্ছে যে, পাঁচ হাজার টাকার একটি মোকদ্দমার জন্য দুদকের পাঁচ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। এখন জনগণের কষ্টের এই পাঁচ হাজার টাকার একজন দুর্নীতির প্রতিরোধের জন্য মামলা দায়ের থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত আট থেকে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা কতটুকু সমীচীন, প্রশ্ন রাখেন আদালত।

হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহালের রায় : বিদায়ী বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেয়া ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। রায় প্রদানকারী বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের স্বাক্ষরের পর ৯ ফেব্রুয়ারি এ রায় প্রকাশ করা হয়। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী হাজী সেলিম নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। এখনও কারাগারে রয়েছেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিম।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আদালতে দৌড়ঝাঁপ : পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দেয়ার অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলায় এবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আবেদন করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তৃতীয় দফায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর এ আবেদন করেছেন তাদের আইনজীবী। ২১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আছাদুজ্জামানের আদালতে এ জামিন আবেদন করা হয়। আদালত শুনানির জন্য বিকেল ৩টায় সময় নির্ধারণ করেছেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী।

হাইকোর্টে ১১ বিচারপতি নিয়োগ : সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১১ জন অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতিদের নিয়োগ দেন। এরপর আইন মন্ত্রণালয় গেজেটের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তাদের শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে অনধিক দুই বছরের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ নিয়োগ শপথ গ্রহণের দিন থেকে কার্যকর হবে। নতুন নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত বিচারপতিরা হলেন— শওকত আলী চৌধুরী, জেলা ও দায়রা জজ (পি.আরএল); আতাবুল্লাহ, জেলা ও দায়রা জজ, কুমিল্লা; বিশ্বজিৎ দেবনাথ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল; আমিনুল ইসলাম, ডেপুটি আ্যাাটর্নি জেনারেল; অ্যাডভোকেট আলী রেজা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; বজলুর রহমান, রেজিস্ট্রার জেনারেল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; কে এম ইমরুল কায়েশ, মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা; ফাহমিদা কাদের, জেলা ও দায়রা জজ, টাঙ্গাইল; বশির-উল্লাহ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল; এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; এ কে এম রবিউল হাসান, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

মহিষ নিয়ে জামাই-শ্বশুরের দ্বন্দ্ব গড়াল হাইকোর্টে : বিদেশ যাওয়ার আগে নিজের গরু-মহিষগুলো শ্বশুরের কাছে দিয়ে যান জামাই। ১১ বছর পর বিদেশ থেকে এসে সেগুলো ফেরত চাইলে শ্বশুর তা দিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত। উচ্চ আদালত দুপক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমঝোতার জন্য সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে পাঠান। সেই অনুসারে ২৩ জুন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস বিষয়টি দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দেয়। উভয় পক্ষের সম্মতিতে ১৭টি মহিষের মধ্যে বড় পাঁচটি ও ছোট চারটি মহিষ জামাই নেবেন। আর বড় ছয়টি এবং ছোট দুটি শ্বশুর নেবেন। আর গরু নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আগেই সমঝোতা হয়ে গেছে।  

মোমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকার বৈধতা নিয়ে রিট : বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে শপথ ভঙ্গ করার অভিযোগে ড. এ কে আব্দুল মোমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এরশাদ হোসেন রাশেদের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ। রিটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ তিনজনকে বিবাদী করা হয়েছে। গত ২১ আগস্ট একই অভিযোগে পদত্যাগ করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে লিগ্যাল নোটিস পাঠান এরশাদ হোসেন রাশেদ। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে বলা হয় নোটিসে। আর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয় ওই সময়। নোটিসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে আপনি ভারত সরকারকে যে অনুরোধ করেছেন, এটা আপনি করতে পারেন না। কারণ সংবিধানে বলা হয়েছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আপনি সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। আপনি মন্ত্রী পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

হাইকোর্টের রায়ে স্ত্রীকে ফিরে পেলেন স্বামী : হাইকোর্টের নির্দেশে নিজের স্ত্রীকে ফিরে পেয়েছেন রংপুরের বদরগঞ্জের স্বামী শ্যাম সুন্দর। স্ত্রী হেমা শর্মা বিয়ের পরদিন থেকে মা ও মামাদের কাছে বন্দি ছিলেন। ১৩ নভেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক রিটের শুনানিতে এ আদেশ দেন। এদিন আদালত হেমা শর্মার বক্তব্য শুনতে চান। তখন হেমা শর্মা আদালতকে জানান, তিনি প্রাপ্ত বয়স্ক একজন নারী। শ্যাম সুন্দর রায়কে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। তারা একসঙ্গে থাকতে চান। আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, হেমা ও শ্যামের দাম্পত্য জীবন ফিরে পাওয়ার লড়াইটা ছিল ব্যতিক্রম। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি তারা ভালোবেসে বিয়ে করেন। শ্যামের পরিবার বিয়েতে সম্মত থাকলেও বাবাহীন হেমার মা ও তার মামারা এ বিয়ে মেনে নেয়নি। তারা বিয়ের পরদিন হেমাকে পুলিশের সহায়তায় তুলে নিয়ে মামা গণেশের বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়।

অর্থ লুটপাটকারীদের ‘শুট ডাউন’ করা উচিত —হাইকোর্ট : বেসিক ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচারকারীদের ‘শুট ডাউন’ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। ৮ নভেম্বর বেসিক ব্যাংকের অর্থপাচার মামলার আসামি রাজধানীর শান্তিনগর শাখার তৎকালীন ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর জামিন শুনানিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, অর্থপাচারকারীরা জাতির শত্রু। কেন এসব মামলার ট্রায়াল হবে না? দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে আদালত বলেন, কেন চার্জশিট দিচ্ছেন না? অর্থ লুটপাট ও পাচারের মামলার সামারি ট্রায়াল হওয়া উচিত। যারা জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে তাদের ‘শুট ডাউন’ করা উচিত। এটাই তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। এদিন বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার তৎকালীন ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা তিন মামলায় তাকে জামিন দেননি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ছয়টি মামলার তদন্তকাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় আদালত পাঁচ বছরেও বেসিক ব্যাংকের ৫৬ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া এবং অভিযোগপত্র না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আপনার আচরণ সভ্য রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক —ইউএনওকে হাইকোর্ট : আদালতের নোটিস জারিকারকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিচারের হুমকি দেয়ার ঘটনায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ইউএনও মো. রেজাউল করিমকে ভর্ৎসনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ‘আপনি একটি পক্ষ নিয়ে যে আচরণ করেছেন তা সভ্য রাষ্ট্রের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’ বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। শুনানির শুরুতে আদালতের নোটিস জারিকারকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিচারের হুমকি দেয়ার ঘটনায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ইউএনও মো. রেজাউল করিম ও নাজির উকিল মিয়া নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত বলেন, ‘আপনাকে ক্ষমা করলে আমরা আটকে যাব। আদালত সবার ওপরে। আদালতের আদেশ সবার মানতে হয়। আপনি আদালতের আদেশ মানেননি। আদালতের সমন নিয়ে নোটিস জারিকারকরা আপনাদের কাছে গিয়েছিল। আপনার উচিত ছিল তাকে ধন্যবাদ দেয়া। অথচ কী দুর্ব্যবহার না করলেন! কত অজুহাত দেখালেন! আপনি যে আচরণ করলেন তা সভ্য রাষ্ট্রে কলঙ্ক লেগে গেল। আপনি একটা ছোট বিষয় হ্যান্ডেল করতে পারেন না। কীভাবে জনসেবা করবেন? একটি কথা মনে রাখবেন, আইন-আদালত আছে বলেই আপনি সম্মান পান। আপনি যদি আইন না মানেন আপনাকে কেউ মানবে না। হাইকোর্ট ইউএনও রেজাউল করিমকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আপনি নিজের ভবিষ্যৎ নিজে নষ্ট করেছেন। আদালত অবমাননার ঘটনায় আদালতে আসতে হয়েছে আপনাকে। আপনার ক্যারিয়ারে একটি স্পট পড়ে গেল। আমরা যদি একটি লাইন লিখে দিই আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে।

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সরকারের পূর্বানুমতির বিধান বাতিল : সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সরকারের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান বাতিল ২০২২ সালের একটি অন্যতম আলোচিত রায়। গত ২৫ আগস্ট সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সরকারের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪১(১) ধারা বেআইনি, সংবিধান পরিপন্থি ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থি। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সরকারের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান বাতিল করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেন। একইসঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। ৬ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

নর্থ সাউথের চার ট্রাস্টিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন হাইকোর্ট : ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিদায়ী বছরের ২২ মে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চার সদস্যের জামিন আবেদন খারিজ করে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ট্রাস্টি বোর্ডের চার সদস্য হলেন— এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান ও মোহাম্মদ শাহজাহান। তারা আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালত আদেশে বলেন, আবেদনকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আবেদনকারী অভিযুক্তরা আগাম জামিন পেতে পারেন না। তাছাড়া আগাম জামিন পাওয়ার মতো যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য কারণ তারা আদালতকে দেখাতে পারেননি। যে কারণে আগাম জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হলো।  

মোমবাতির আলোতে হাইকোর্টে বিচারকাজ : গত ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় সারা দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টেও। তবে বিদ্যুৎ না থাকলেও থেমে ছিল না উচ্চ আদালতের বিচারকাজ। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এজলাস কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে ও মোবাইলের আলোতে বিচারকাজ পরিচালনা করেছেন বিচারপতিরা। আদালতে উপস্থিত থাকা একাধিক আইনজীবী জানান, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারকাজ পরিচালনা করেছিলেন। দুপুরের দিকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে সুপ্রিম কোর্ট। এসময় এনেক্স ভবনের জেনারেটরও বন্ধ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিচারকাজ বন্ধ না করে মোমবাতি জ্বালিয়ে এবং এজলাস কক্ষে থাকা আইনজীবীদের মোবাইলের লাইটের আলোতে বিচারকাজ চলতে থাকে। প্রায় সোয়া ঘণ্টা মোমবাতি ও মোবাইলের আলোতে অনেক মামলা নিষ্পত্তি করেন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ। এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

কাবিননামায় কুমারী শব্দ বাতিল করে যুগান্তকারী রায় : মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে কাবিননামার ৫ নম্বর কলামে থাকা ‘কুমারী’ শব্দটি সংবিধান পরিপন্থি এবং তা বাতিল ঘোষণা করে গত ১৭ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, ‘কাবিননামায় কুমারী শব্দ থাকা নারীর জন্য অপমানজনক, বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতদুষ্ট এবং সংবিধান ও সিডও সনদের (বৈষম্য বিলোপ সনদ) পরিপন্থি’। এ কারণে ছয় মাসের মধ্যে কাবিননামার ফরম থেকে ‘কুমারী’ শব্দ বাদ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রকাশ করেন।  

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা দিতে হবে : বিদায়ী বছরের ১৭ নভেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের সাতটি তথ্য সম্বলিত হলফনামা দাখিল করতে হবে, এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণার রায়ে ১৭ নভেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, অন্যান্য নির্বাচনে নমিনেশন পেপারের সঙ্গে সাতটি তথ্য সম্বলিত হলফনামা দেয়ার বিধান আছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হলফনামা দেয়া হয় না। যদিও ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ২৬(৩) এ হলফনামা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০১০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিতে শুধুমাত্র প্রত্যয়নপত্র দেয়ার কথা বলা হয়েছে। হলফনামা দেয়ার কথা নেই। হাইকোর্ট বলেছেন, যেহেতু বিধিমালার ওপর আইন প্রাধান্য পাবে সে কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল করতে হবে।

চেক ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানো সংবিধান পরিপন্থি : চেক ডিজঅনার মামলায় কোনো ব্যক্তিকে জেলে পাঠানো সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি— এটা বিদায়ী বছরের অন্যতম আলোচিত রায়। গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট রায়ে বলেন, চেক ডিজঅনার মামলায় কোনো ব্যক্তিকে জেলে পাঠানো সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা সংবিধান পরিপন্থি। নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় কোনো ব্যক্তিকে কারাগারে বন্দি রাখা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণের নামান্তর। চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা নিষ্পত্তি করে ২৮ আগস্ট বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা সংশোধন করে চেক ডিজঅনার মামলায় জেলে পাঠানোর বিধান বাতিল করার জন্য জাতীয় সংসদকে পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত চেক ডিজঅনারের মামলা নিষ্পত্তির জন্য একটি গাইড লাইন করে দিয়েছেন।

সাংবাদিকরা সোর্স প্রকাশ করতে বাধ্য নয় : কোনো সাংবাদিক তার নিউজের তথ্যের সোর্স কারো কাছে প্রকাশ করতে বাধ্য নয় বলে রায় দেন হাইকোর্ট। এটিও বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রায় ছিল। বিদায়ী বছরের ২৩ অক্টোবর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ আলোচিত এ রায় দেন। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে দেয়া আছে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আদালত রায়ে বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য তুলে ধরে সমাজের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যমের কাজ হলো জনগণকে সজাগ ও সচেতন করা। আদালত বলেন, বর্তমান সময়ে প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যম দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিশেষের দুর্নীতি-অর্থপাচার ফলাও করে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে হলুদ সাংবাদিকতা কখনও সমর্থন করা যায় না। আদালত আশা প্রকাশ করে বলেন, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে মনোযোগী হতে হবে। দুর্নীতি, অর্থপাচার ও জনস্বার্থ আছে— এ ধরনের সব সংবাদ সাংবিধানিকভাবে ও আইনগতভাবে সাংবাদিকরা তুলে ধরতে পারেন। সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে যে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে তাতে সাংবাদিকরা তাদের নিউজের তথ্যের সোর্স প্রকাশ করতে বাধ্য নন।

ব্যাংক চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না : বিদায়ী বছরের ২৩ নভেম্বর হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত বলেন, এখন থেকে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য শুধুমাত্র ২০০৩ সালের অর্থঋণ আইনের বর্ণিত উপায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবে। পাশাপাশি বর্তমানে আদালতে চলমান ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা সব চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ঋণ আদায়ের জন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের চেক ডিজঅনার মামলা বাতিল করে ২৩ নভেম্বর বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, ব্যাংক ঋণের বিপরীতে যে চেক নিচ্ছে সেটা জামানত। বিনিময়যোগ্য দলিল নয়। জামানত হিসেবে রাখা সেই চেক দিয়ে চেক ডিজঅনার মামলা করা যাবে না। পরে আপিল বিভাগ এই রায় দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন।

তরুণীকে কানাডা সরকারের হাতে তুলে দেন হাইকোর্ট : বিদায়ী বছরের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর উত্তর মুগদায় ১০ মাস ধরে বাবা-মায়ের বাসায় ‘গৃহবন্দি’ থাকা ১৯ বছরের কানাডিয়ান তরুণীকে দেশটির সরকারের হাতে তুলে দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেন আদালত। তরুণীর বাবা-মা দেখা করতে চাইলে সেই ব্যবস্থা করতে কানাডিয়ান হাইকমিশনকে বলা হয়। এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। স্পিকারকে বিদেশে চিকিৎসা ব্যয় অনুমোদনের ক্ষমতা দিতে রায় আইন বিভাগের প্রধান হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং হুইপের জন্য বিদেশে চিকিৎসা ব্যয় অনুমোদনের ক্ষমতা দেয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। গত ৩ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩২ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ করা হয়েছে। রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

Link copied!