Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ, ২০২৪,

পাবলিক পরীক্ষায় ধারাবাহিক এগিয়ে মেয়েরা

মো. নাঈমুল হক

ডিসেম্বর ৯, ২০২৩, ১২:০৫ এএম


পাবলিক পরীক্ষায় ধারাবাহিক এগিয়ে মেয়েরা
  • বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পাসের হার ও জিপিএ ৫-এ এগিয়ে

ভালো ফল করলেও চাকরিক্ষেত্রসহ অনেক জায়গায় এখনো নারীদের অংশগ্রহণ বাড়েনি
—ড. মঞ্জুর আহমেদ
ইমেরিটাস অধ্যাপক
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

নারীরা পুরুষদের ন্যায় সমানভাবে শেখার সুযোগ পাওয়ার ঘটনা কয়েক দশক আগের। পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তৎকালীন সময়ে মেয়েদের শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হতো না। নারীর পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ ছিলো বাল্যবিয়ে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী মেয়েদের বাল্যবিয়েতে এখনো এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এরপরও দেশের পাবলিক পরীক্ষায় পুরুষদের তুলনায় ক্রমাগত এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। বিগত ছয় বছরের এইচএসসি ও এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে এ বিষয়টি জানা যায়। 

এসএসসি ও এইচএসসির ফল পর্যালোচনায় জানা যায়, সর্বশেষ ২০২৩ সালের এইচএসসি ও এসএসসির ফলাফলে জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ বছর এইচএসসিতে ছাত্রদের পাসের হার ৭৬.৭৬ এবং ছাত্রীদের ৮০.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় তিন দশমিক আট এক শতাংশ বেশি। অন্যদিকে জিপিএ-৫-এও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। ছাত্ররা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩ হাজার ২৩০ জন। অন্যদিকে ছাত্রীরা পেয়েছে ৪৯ হাজার ৩৬৫ জন। একইভাবে এসএসসি ফলাফলেও ভালো করেছে মেয়েরা। ছেলেদের চেয়ে তারা তিন দশমিক শূন্য এক শতাংশ ভালো করেছে। ছাত্রদের পাসের হার ৭৮.৮৭ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৮১.৮৮ শতাংশ। ছাত্ররা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮ হাজার ৬১৪ জন। আর ছাত্রীরা পেয়েছে ৮৪ হাজার ৯৩৬ জন। অর্থাৎ ১৩ হাজার ৬৭৮ জনে এগিয়ে রয়েছে ছাত্ররা। 

২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত টানা চার বছর জিপিএ-৫-এও এগিয়ে রয়েছে তারা। ২০১৮ সালে এসএসসিতে এক দশমিক ৯৫ শতাংশ পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এইচএসসিতেও পাঁচ দশমিক ৮৪ শতাংশ এগিয়ে। তবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জিপিএ-৫-এ ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে। ২০১৮ সালে এক হাজার ৯০০ ও ২০১৯ সালে এক হাজার ৮৬০ জনে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। করোনার পর থেকে পাসের হার জিপিএ-৫ দুটোতেই এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় পুরুষ ও নারী শতভাগ পাস করে। তবে জিপিএ-৫-এ এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। চার হাজার ৮৬৯ জনে এগিয়ে রয়েছে তারা। এসএসসিতে পাসের হার দুই দশমিক ৪৭ শতাংশ ও চার হাজার ৩৯০ জন জিপিএ-৫-এ এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।  ২০২১ সালে এইচএসসিতে দুই দশমিক ৩৫ শতাংশ ও এসএসসিতে এক দশমিক ৮১ শতাংশ পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। এইচএসসিতে ১৫ হাজার ৬৪৩ ও এসএসসিতে ২৩ হাজার ৮১৬ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০২২ সালেও এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা; এইচএসসিতে শূন্য দশমিক ৫৫ ও এসএসসিতে দুই দশমিক ৯৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ এইচএসসিতে ১০ হাজার ১৬০ ও এসএসসিতে ২৭ হাজার ২৯০ জনে এগিয়ে রয়েছে। 

জাতিসংঘের জনসংখ্যাবিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে এখন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেই শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি ২০২৩-এ ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের তথ্যে বলা হয়েছে, বয়স ১৮ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ৫১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, এ ব্যাপারে তেমন কোনো গবেষণা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে ছাত্রদের পিছিয়ে থাকার কারণ হলো তারা বাইরে বের হয়। একটু বড় হলেই বাইরের বিভিন্নজনের সঙ্গে মেশার কারণে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে। অনেকে মোবাইল নেশায়ও আসক্ত হয়। ১২ বছরের পরই অনেক ছেলের পরিবারের উপার্জনে সময় দিতে হয়। ফলে নামমাত্র স্কুলে ভর্তি থাকার বিষয়টিও দেখা যায়। গবেষণা ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বলা যায় না। তবে আপাত দৃষ্টিতে এগুলোই মনে হচ্ছে।

মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা পূর্বে পড়াশোনা করতে পারত না। সে তুলনায় বর্তমানে তারা এগিয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক দিক থেকে মেয়েরা পিছিয়ে রয়েছে। চাকরি ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ এখনো বাড়েনি। নিরাপত্তাহীনতা ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রভাব রয়েছে তাদের ওপর। ভালো ফলাফলের কারণ হলো, তারা বাসায় থেকে পড়াশোনায় মনোযোগী থাকে। তাই পূর্বের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ থেকে এগিয়েছে মেয়েরা।

 

Link copied!