Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ, ২০২৪,

জাইকার তহবিল

ফেরত যাচ্ছে ২৪৬০ কোটি টাকা

আব্দুল কাইয়ুম

আব্দুল কাইয়ুম

ডিসেম্বর ৯, ২০২৩, ১২:১৩ এএম


ফেরত যাচ্ছে ২৪৬০ কোটি টাকা
  • ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র অনুমোদন করতে পারেনি
  • জাইকা চারটি প্যাকেজের সংশোধন ও একটির প্রাথমিক অনুমোদন দেয়
  • এমআরটি লাইন-১ কাজ হবে ১২টি প্যাকেজের আওতায়
  • অর্থ ফেরত গেলে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়বে
  • নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত

জাইকা টাকা ফেরত নিলেও কাজের গতি কমার সম্ভাবনা নেই 
—আবুল কাসেম ভূঁঞা, প্রকল্প পরিচালক, এমআরটি লাইন-১

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) প্রকল্প ম্যাস র?্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-১ এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র অনুমোদন করতে না পারায় ডিএমটিসিএল অব্যবহূত দুই হাজার ৪৬০ কোটি টাকার তহবিল জাপানিজ কোম্পানি জাইকাকে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত হ্রাসের মধ্যেও বিদেশি অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ দিনের সমস্যা বিলম্বের কারণে এই অর্থবছরের জন্য জাপানের ঋণের বরাদ্দ অর্থ তারা ব্যবহার করতে পারেনি বলে জানিয়েছে এমআরটি লাইন-১ সূত্র।

ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট লাইনের সূত্রমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে জাইকার কাছে দরপত্র সংক্রান্ত কাগজপত্র পাঠানো হয়। তবে জাইকা চারটি প্যাকেজ সংশোধনের পরামর্শ দেয় এবং একটিতে প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। অনুমোদিত প্যাকেজের জন্য গত ২৬ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়, এরপর টেন্ডার বাক্স খোলা হয় গত ১৪ নভেম্বরে। তবে ঠিকাদার চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আগে জাইকার পর্যালোচনা দরকার হয়। দরপত্র আহ্বানের পর জাইকার কারিগরি পর্যালোচনা, কারিগরি সম্মতি ও কারিগরি অনুমোদনের দরকার হয় বলে সূত্র জানায়। এসব পর্যায়ের অনুমোদন লাভের পরই ডিএমটিসিএলের বোর্ড চূড়ান্তভাবে ঠিকাদার নিয়োগ করতে পারবে। চূড়ান্ত অনুমোদন লাভের পর ভূগর্ভস্থ অংশের প্যাকেকের কাছ সম্পন্ন করতে পাঁচ বছর লাগবে। 

এমআরটি লাইন-১ এর সূত্র আরও বলেন, এমআরটি লাইন-১ এর প্রকল্প কাজ হবে ১২টি প্যাকেজের আওতায়। এর মধ্যে ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নের মাধ্যমে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও নির্মাণসংক্রান্ত  প্যাকেজগুলো এখনো কাজ শুরু হয়নি। চারটি প্যাকেজে আন্ডারগ্রাউন্ড অংশের রেললাইন ও স্টেশনের পুরো কাজ চলতি অর্থবছরে শুরুর পরিকল্পনাও করেছিল ডিএমটিসিএল। এ জন্য তিন হাজার ৯১০ কোটি টাকা এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়, এর মধ্যে বিদেশি তহবিল ছিল দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা। তবে আগামী জুন নাগাদ মাত্র একটি প্যাকেজের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন। ঋণদাতা জাইকার থেকে চারটি প্যাকেজের অনুমোদন পেতেও দেরি হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে মেগা এমআরটি লাইন-১ এর প্রকল্পটি হাতে নেয়া হলেও, কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কারণ তাদের পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। আগামী অর্থবছরে যদি নির্মাণকাজ শুরু হয়, তাহলে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে হাতে সময় থাকবে মাত্র আড়াই বছর, বাস্তবে যা অসম্বব। এর ফলে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় উভয়েই বাড়বে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সুবিধাও বিলম্বিত হবে। অনুমোদনের চার বছরেও মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণকাজ শুরু করতে না পারা হতাশার। রাজস্ব ঘাটতি, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে পতন, বিনিময় হারে চাপের কারণে সরকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি সহায়তা ফেরত গেলে আশঙ্কা বাড়বে। 

ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল কাসেম ভূঁঞা আমার সংবাদকে বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ঋণদাতা সংস্থার পক্ষ থেকে ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদনসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণেই মূলত বরাদ্দকৃত তহবিল ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এই প্যাকেজের ঠিকাদার নিয়োগ চলতি অর্থবছরে শেষ হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বরাদ্দ অর্থ ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এই চারটির মধ্যে একটি প্যাকেজের চূড়ান্ত অনুমোদন ২০২৪ সালের জুনে পাওয়া যেতে পারে। তাই এসব প্যাকেজের মোবিলাইজেশন অ্যাডভান্স (প্রাথমিকভাবে ঠিকাদারকে দেয়ার জন্য বরাদ্দ অর্থ) অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে। এই বিলম্বের কারণে প্রকল্পের সার্বিক ব্যয়ও বাড়বে।’ 

এমআরটি-১ প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, ‘কিছু প্যাকেজ জাইকার পরামর্শের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ডের চারটি প্যাকেজের অ্যাডভান্স মোবিলাইজেশনাল প্রথমে ঠিকাদারকে টাকা দিতে হয়। আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি প্যাকেজ ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। বাকিগুলোর মূল্যায়ন করা, জাইকার অনুমোদন, টেকনিক্যাল অনুমোদন, ফাইনান্সিয়াল প্যাকেজ চালু ও মূল্যায়ন করা হলে তবেই শুরু হবে। সব কার্যক্রম শেষ করে আবারও জাইকাতে পাঠিয়ে এমআরটি বোর্ড থেকে অনুমোদন নেয়া হবে। সব প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করতে হয়তো জুনের পর হয়ে যাবে।’ 

টাকা ফেরত গেলে কাজ বন্ধ হবে কি-না, জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘টাকা ফেরত দেয়ার ফলে কাজের গতি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ কাজের সব তথ্যাদি জাইকার কাছে রয়েছে। অনুমোদন দিলেই আবারও আগামী বছর থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে টেন্ডার প্রসেস ও মূল্যায়ন করে নতুন করে ফিরিয়ে নেয়া টাকা দিয়ে কাজ শুরু হবে। জাইকার প্রজেক্ট রিইভেস্টবল না। আমরা বিল পাঠিয়ে দেই জাপানে সেখান থেকে পেমেন্ট হয়। তাদের সেফটি পলিসি অনুযায়ী টাকা ফিরিয়ে নেবে। কারণ তারা সব কিছু পরিষ্কার না হলে টাকা দিতে চায় না। দুই হাজার ৪৬০ কোটি টাকা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ২৪০ কোটি টাকা দিয়ে চলতি কাজ সম্পন্ন করা হবে। টাকা নিয়ে গেলেও এগুলোকে আন্ডারগ্রাউন্ডের অন্য প্যাকেজে কাজে লাগনো হবে। যদিও ২০২৬ সালে কাজ শেষ হবার কথা তবে এটি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।’

 

Link copied!