তানজিদ সরওয়ার
ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৫:০৬ পিএম
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পেছনে ব্যাংকিং খাত একটি মৌলিক ও অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, রেমিটেন্স, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রেই ব্যাংক খাত সরাসরি অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
ব্যাংক খাত ছাড়া অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না। এই বাস্তবতায় দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম, যা আধুনিক দায়িত্বশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রেখে চলেছে।
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি মূলত একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে রিটেইল, কর্পোরেট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষি খাতে অর্থায়ন ও বহুমুখী ব্যাংকিং পরিষেবা প্রদান করে আসছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত শাখা ও উপ-শাখার মাধ্যমে ব্যাংকটি সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী পর্যন্ত সকল শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করছে।
আইএফআইসি ব্যাংকের মোট শাখা ও উপশাখার সংখ্যা ১৪১৪টি, ফলে বর্তমানে মোট শাখা ও উপশাখায় দেশে সর্ববৃহৎ ব্যাংক আইএফআইসি। একই সঙ্গে বর্তমানে আমানতের পরিমান ৫১ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. মেহমুদ হোসেন। এছাড়াও আইএফআইসি ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ শেয়ার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আইএফআইসি ব্যাংক গ্রাহকদের নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ লেনদেনের সুযোগ করে দিয়েছে। ব্যাংকিং সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
আইএফআইসি ব্যাংক সাধারণ ব্যাংকিং সেবার আওতায় চলতি হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব ও মেয়াদী আমানত বা এফডিআর গ্রহণের পাশাপাশি সহজ ও নির্ভরযোগ্য টাকা লেনদেনের সুবিধা প্রদান করে থাকে। নিরাপদ আমানত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রাহকদের সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি লাভজনক মুনাফার সুযোগও তৈরি করছে ব্যাংকটি।
আইএফআইসি ব্যাংকের একটি জনপ্রিয় ও উদ্ভাবনী পণ্য হলো ‘আইএফআইসি আমার একাউন্ট’। এই বিশেষ একাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহকরা পাচ্ছেন দৈনিক ভিত্তিতে মুনাফা ও আনলিমিটেড লেনদেন সুবিধা। এছাড়া ভ্যাটসহ মাত্র ২৩০ টাকায় ২০ পাতার চেক বই এবং ভ্যাটসহ ৬৩০ টাকায় ডেবিট কার্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
দৈনন্দিন ব্যাংকিং চাহিদা পূরণে এই একাউন্ট গ্রাহকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং এটি ব্যাংকের গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি বাস্তব উদাহরণ।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে ঋণ বিতরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইএফআইসি ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। ব্যাংকটি প্রদান করছে পার্সোনাল লোন, হোম লোন, অটো লোন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই ঋণ ও কৃষি ঋণ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও কৃষি খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে আইএফআইসি ব্যাংক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বর্তমান যুগে ডিজিটাল ব্যাংকিং আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। আইএফআইসি ব্যাংক ‘আইএফআইসি আমার অ্যাপ’ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের ঘরে বসেই লেনদেনের সুবিধা দিচ্ছে। ব্যালেন্স চেক, ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পরিশোধসহ নানা সেবা এখন হাতের মুঠোয়। এই ডিজিটাল রূপান্তর ব্যাংকিং খাতকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও নিরাপদ করে তুলছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রবাসী আয়ের ভূমিকা অপরিসীম। আইএফআইসি ব্যাংক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি ও বাণিজ্য অর্থায়ন সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে পরিচালনা করে থাকে। পাশাপাশি দ্রুত ও নিরাপদ রেমিটেন্স সেবার মাধ্যমে প্রবাসী আয় দেশে আনতে ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আইএফআইসি ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য লকার সুবিধা, সঞ্চয়পত্র ক্রয় ও স্টুডেন্ট ফাইল খোলার সুবিধাসহ নানা সেবা প্রদান করছে, যা ব্যাংকটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এছাড়া দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে আইএফআইসি ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড ব্রোকারেজ সেবা প্রদান করছে। এর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা ব্যাংকিং খাতে ২৮ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন দক্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও ট্রেজারি অপারেশনে তার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ব্যাংকের নীতিনির্ধারণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তার নেতৃত্বে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যাংকের মূলধন, লভ্যাংশ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
গ্রাহক আস্থা ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইএফআইসি ব্যাংক তাদের ব্যাংকিং পলিসি ও সেবার মান নির্ধারণ করে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা সাহসিকতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ব্যাংকিং খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার দিকনির্দেশনামূলক ভূমিকা পালন করে চলেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবায়নে ব্যাংক খাতের ভূমিকা অপরিহার্য।
শিল্প, ব্যবসা, কৃষি, রেমিটেন্স ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে দায়িত্বশীল ব্যাংকিং ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি আধুনিক প্রযুক্তি, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি আস্থার নাম হয়ে উঠেছে। ব্যাংক খাত নেই, এমন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বাংলাদেশ কেবল কল্পনা, আর সেই বাস্তবতায় আইএফআইসি ব্যাংক এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতের দিকে।
ইএইচ