Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

‍‍`শেষ সম্বল টুকো নৌকায় তুলেছি, কোথায় যাব জানি না‍‍`

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

জুন ২২, ২০২২, ০২:১১ পিএম


‍‍`শেষ সম্বল টুকো নৌকায় তুলেছি, কোথায় যাব জানি না‍‍`

ঘর বাড়ি গাছপালা সব নদীর পেটে অবশিষ্ট যেটুকু মাল-সামানা ছিল তা নৌকার ভিতরে তুলেছি কোথায় যাব জানি না।

মঙ্গলবার  (২১ জুন) কথাগুলো এভাবেই বলতে ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী  উপজেলার চর গয়টা পাড়া গ্রামের আবদুল হক (৪৫) ও ছবেদ আলী (৫০)। 

তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রের পানির বৃদ্ধি পেয়ে আমাদের হলহলিয়া নদী দিয়ে বয়ে আসে, তিব্র স্রোতের কারণে আমাদের ভিটে বাড়ি গাছপালা সব নদীর পেটে বিলিণ হয়ে গেছে, বা যা অবশিষ্ট ছিল তা অন্যের নৌকায় তুলেছি কোথায় যাব জানি না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের, চরগয়টা পাড়া, কাউনিয়ারচর, ডিগ্রির চর গ্রামের হলহলিয়া নদীর তিব্র ভাঙ্গনে ১৫টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিজের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে তারা ছোট, ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে কোনায় যাবে কোথায় থাকবে ভেবে পাচ্ছে না নদী ভাঙ্গা মানুষ গুলো। কেউ কেউ আবার তাদের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন কেউ বা উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

তাদের মধ্যে ভিটে বাড়ি হারানো উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চরগয়টা পাড়া গ্রামের মো. ছবেদ আলী বলেন, সারা জীবনের উপার্জনের টাকা জমিয়ে ৭ কাটা জমি কিনে বাড়ি করে ছেলে মেয়ে নিয়ে দিন কাটাতাম এই ভিটে মাটি টুকোই ছিল আমাদের সম্বল সেটাও সর্বনাশা নদী কেড়ে নিল। এখন আমাদের যাওয়ার মতোন আর কোনো জায়গা নেই, কোথায় যাব তাই ভাবছি, চতুর্থ দিকে পানি আর পানি যাওয়ার মতোন তেমন কোনো জায়গা নেই। কোন জনপ্রতিনিধি আজও আমাদেরকে দেখতে আসল না কোন খোজ খবর নিল না। সরকারের পক্ষ থেকে  কোন প্রকার ত্রাণও দিল না। এখন আমরা এখন সবকিছু হারিয়ে নিরুপায় হয় পরেছি দেখার কেউ নেই।

উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল হক বলেন, বউ বাচ্চা নিয়ে থাকার মতোন একটু জায়গা ছিলো এই ভিটেটা তাও সর্বনাশা নদী আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিল। বউ বাচ্চা নিয়ে এখন কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না। ছেলে মেয়ে বউ বাচ্চা নিয়ে একবেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে অতি কষ্টে রাস্তার ধারে দিন কাটাচ্ছি আমরা। কারো কাছ থেকে কোনো প্রকার সাহায্য বা সহায়তা পাইনি আমরা। নিজের কোন জমি নেই কোথায় যাব কি করব বউ-বাচ্চা নিয়ে কার বাড়ি গিয়ে উঠবো তা এখনো সিদ্ধান্ত করতে পারিনি।

উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মমিনুল ইসলাম মমিন বলেন, তিব্র স্রোতের কারণে নদী ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে আমার ওয়ার্ডের ৮টি বাড়ি ভাঙ্গা পরিবারে নাম উপজেলায় জমা দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এটার একটা ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল (ভার) বলেন, খবর পেয়েছি নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমারসংবাদ/এআই