Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

‍‍`বঙ্গবন্ধুর খুনির আত্মীয়দের শোক দিবস পালন করতে দিব না‍‍`

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর প্রতিনিধি

আগস্ট ৫, ২০২২, ০৩:২৬ পিএম


‍‍`বঙ্গবন্ধুর খুনির আত্মীয়দের শোক দিবস পালন করতে দিব না‍‍`

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা করেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ।

নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র নিমাই চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে এ প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে শোকরালি করা হয়। শুক্রবার (৫ আগষ্ট) নগরকান্দা বালিকা বিদ্যালয় মাঠে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রস্তুতি সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ঘাতক মেজর ডালিমের বিচার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘাতককে দ্রুত দেশে এনে বিচার করতে হবে।

এসময় বক্তারা বলেন, নগরকান্দায় বঙ্গবন্ধুর খুনির একজন ভায়রা ভাই আছে। তিনি আওয়ামী লীগের ব্যানারে ১৫ আগষ্ট পালন করার পায়তারা চালাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মেজর ডালিমের আত্মীয় স্বজনরা শোক দিবস পালন করা মানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে উপহাস করা। জাতির পিতাকে নিয়ে তামাশা করা। তাই এসব বেঈমানদের শোক দিবস পালন করতে দেয়া হবে না। 

দেশে মেজর ডালিমের কিছু আত্মীয়রা আওয়ামী লীগে বিভেদ সৃষ্টি করছে। তারা হাইব্রিড আওয়ামী লীগ সেজে দেশের প্রকৃত আওয়ামী লীগের রাজনীতির বারোটা বাজাচ্ছে। এরা মুজিব কোর্ট পরে আওয়ামী লীগের সর্বনাশ করে দিচ্ছে। 

আজকে নগরকান্দায় প্রকৃত আওয়ামী নেতাদের পাত্তা নেই। একজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি নগরকান্দার উপর ভর করেছে। তিনি রাজাকার ও হাইব্রিডদের দলে ভিড়িয়ে আওয়ামী লীগকে কলঙ্কিত করেছে।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াহিদুল বারী আলম খন্দকার বলেন, এখন সময় এসেছে বহিরাগতদের প্রতিহত করার। তাদের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচন করে শিকড়সহ উপড়ে ফেলতে হবে। 

নগরকান্দার মাটিতে কোন ভাড়াটিয়ার জায়গা হবে না। নগরকান্দার দায়িত্ব নেয়ার মত অনেক সু সন্তান রয়েছে। কোন ভিনদেশী কু সন্তান দরকারন নেই। অন্যজেলা থেকে ভাড়ায় এসে নগরকান্দা আওয়ামী লীগকে ধংস করে দিয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ নেতা বাবলু চেয়ারম্যান বলেন, মেজর ডালিমের শালা, দুলাভাই, ভায়রা যে যেখানে আছে, তাদেরকে নজরদারিতে রাখতে হবে। নগরকান্দার জনগণ আমাদের পাশে থাকলে এই ঘৃণিত মেজর ডালিমের ভায়রাদের নগরকান্দার মাটি থেকে বিতাড়িত করে ছাড়বো।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বলেন, লাবু চৌধুরী একটা জাতীয় চিটার। দুর্নীতির দায়ে ১৪ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামী। সে কখনো আওয়ামী লীগে লোক হতে পারেনা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানোয়ার হোসেন বলেন, লাবু চৌধুরী নগরকান্দার কেউ না। তিনি হল ভাড়াটিয়া। আর কোন ভাড়াটিয়ার পেছনে আমরা রাজনীতি করবো না।

নগরকান্দার মাটিতে এমপি হতে হলে এই নগরকান্দার  কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে। কেউ যদি দায়িত্ব নেয় আমরা তার পিছে আছি। তবে দুর্নীতিগ্রস্ত লাবু চৌধুরীকে এই নগরকান্দা সালথা মাটি থেকে প্রত্যাখ্যান করে, তবেই ঘরে ফিরব।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, রাজনৈতিক প্রতিনিধির ব্যবহার করে ও সাজেদা চৌধুরীর নাম ভাঙিয়ে লাবু চৌধুরী বহু অপকর্ম করেছে।

নগরকান্দার ও সালথার মাটিতে আর কোন অপকর্ম করতে দেয়া হবে না। নগরকান্দা ও সালথা মাটি থেকে লাবু চৌধুরীকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তৈবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমের ভায়রা লাবু চৌধুরী রাজাকার ও হাইব্রিডদের নিয়ে রাজনীতি করছেন। অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপর অন্যায় অত্যাচার ও নির্যাতন করেছেন। 

একমাত্র আমাদের দুঃসময়ে সময়ে আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন আমাদের এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া। 

তাই আমরা জামাল হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে নগরকান্দা সালথা আওয়ামী লীগকে ঐকবদ্ধ রাখতে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও এমপি হিসাবে দেখতে চাই।

সভায় অন্যান্য নেতারা বলেন, ছোট্ট রাসেলকে হত্যাকারি বিদেশে অবস্থানকারী মেজর ডালিমকে যারা দেশ থেকে তথ্য সরবরাহ করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের শরীর থেকে মুজিব কোর্ট খুলে ফেলতে হবে। 

জানা গেছে, ফরিদপুর-২ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা এ প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে।

প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ওয়াহিদুল বারী আলম খন্দকার, মান্নান মোল্লা, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরান, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান লাবলু মাতুব্বর, কাইচাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কবির হোসেন ঠান্ডু ও নগরকান্দা উপজেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


আমারসংবাদ/টিএইচ