Amar Sangbad
ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪,

ইউপি সদস্য হাতকাটা মামুনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

ডিসেম্বর ৫, ২০২৩, ০৮:২৪ পিএম


ইউপি সদস্য হাতকাটা মামুনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে পূর্বাঞ্চলের আতঙ্ক সন্ত্রাসী জহিরুল ইসলাম মামুনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ফরিদপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বহিষ্কৃত ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

সোমবার উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ইউপি সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম মামুন ওরফে হাতকাটা মামুন (৪৫) উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের সোনাপুরা গ্রামের মালেক হাওলাদারের ছেলে। ওই এলাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। নিহত মামুন  প্রকাশ্য দিবালোকে ফরিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন হাওলাদার ও যুবলীগ নেতা রনি মোল্লা হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের দফাদার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। আমি থানা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

দফাদার আব্দুর রহিম জানান, ‘ইছাপুরা গ্রামের ছোট বটতলা থেকে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন ইউপি সদস্য মামুন। এ সময় ৫/৭ জনের একটি দল তার ওপর হামলা করে। তিনি দৌড়ে সড়কের পাশে বাগানের মধ্যে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন হামলাকারীরা তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এসময় হামলকারীরা গুলি করে বলেও জানান রহিম।‘

নিহত মামুনের ভাই সুমন হাওলাদার জানান, বালুর ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাই ভাইয়ের সাথে সবুজ সন্যামত ও সোহেল মোল্লাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই বিরোধীদের জের ধরে সোমবার রাতে ফরিদপুর ইউনিয়নের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সবুজ সন্যামতের নেতৃত্বে সোহেল মোল্লা, তকির মোল্লা, মহসিন, রিয়ন, রাতুলসহ ১৫-২০ জন পিস্তল ও রামদা নিয়ে তার ভাই মামুন মেম্বারের উপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা করে কুপিয়ে ও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

নিহত মামুনের মাথায় গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় লোকজন অস্ত্রের ভয়ে কেউ তাকে বাঁচাতে যেতে পারেনি। তিনি অবিলম্বে তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, নিহত ইউপি সদস্য মামুন একজন সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার সাথে সব সময় একটি পিস্তল থাকতো, যার লাইসেন্স ছিল না। সে ক্ষমতার দাপটে ও ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। যে কারণে কেউ ভয়েও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতো না।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোস্তফা সাংবাদিকদের জানান, কতিপয় দুষ্কৃতিকারী ইউপি সদস্য মামুনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা একটি বিচ্ছিন্ন নদীবেষ্টিত এলাকা। হত্যার খবর জানতে পেরে তিনি পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং নিহতের লাশ থানায় নিয়ে এসে সুরতহাল করেন।

এই ঘটনায় থানা একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, নিহত মামুন একাধিক হত্যাসহ ২০-২২টি মামলার আসামী।

উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান জানান, ’২০১৬ সালের ১২ জুন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিনকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউপি সদস্য মামুনকে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় ফরিদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।’

এইচআর

Link copied!