সিলেট প্রতিনিধি
আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৮:৩১ পিএম
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ইজারা বহির্ভূত স্থানে বোমা মেশিন, ড্রেজার ও লিস্টার মেশিন দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযানে দুই শ্রমিককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— উত্তর বুড়দেও গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে মিজান আহমেদ (৩০) ও শাহাব উদ্দিনের ছেলে মেরাজুল আলী (৩২)। তারা দু’জনেই সাধারণ বালু শ্রমিক।
শুক্রবার সকাল ৬টায় ধলাই নদীর ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে বালু উত্তোলন করছিলেন তারা। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী তাদের দণ্ড প্রদান করে।
তবে উপজেলার ধলাই ও পিয়াইন নদীতে শ্যালো ও পরিবেশ বিধ্বংসী ‘বোমা মেশিন’ বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। প্রশাসনকে উপেক্ষা করে ইতোমধ্যে প্রায় ২ কোটির বেশি ঘনফুট বালু লুট করে স্তূপ আকারে মজুদ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৭০ কোটি টাকারও বেশি। এসব বালু নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে এবং রাতের আঁধারে স্টিলবডি নৌকা ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে।
এ বছরের মার্চ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে উপজেলার বুড়িডহর হাজী হাছন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লামনীগাঁও পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বসতবাড়ি, বিদ্যালয়, মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ, রাস্তা, ফসলি জমি ও শিমুলতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প (গুচ্ছগ্রাম) এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য জুয়েল আহমদ বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে হাজী হাছন আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী ফখরুল আহমেদ বলেন, “পিয়াইন নদীতে বালু লুট দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের।”
বুড়িডহর, গুচ্ছগ্রাম ও লামনীগাঁওয়ের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে নৌকা ব্যবহার করে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং যেকোনো মূল্যে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।”
ইএইচ