ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিল আনসার ও ভিডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিল আনসার ও ভিডিপি

গণপ্রতিরক্ষার অঙ্গীকারকে মানবিক কল্যাণে রূপান্তর করে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্রি চিকিৎসাসেবা’ কর্মসূচির প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠপর্যায়ের ভিডিপি সদস্য ও সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাহিনীর জনবান্ধব ও গণমুখী ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সদর দপ্তর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আগেও ছিল, তবে এবারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’

সমাপনী বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপির সর্বাধিক সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া চিকিৎসাসেবা কর্মসূচিতে সেবাগ্রহীতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাস বাহিনীকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে এসেছে এবং জনআস্থার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেছে। 

মহাপরিচালক বলেন, দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর যে বিরল সক্ষমতা এ বাহিনীর রয়েছে, তা প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাহিনীর ৬০ লক্ষাধিক সদস্য ও তাদের পরিবারসহ প্রায় তিন কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি একাডেমির হাসপাতালকে এ কার্যক্রমের সাথে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।’ 

স্বাস্থ্যসেবাকে মানব নিরাপত্তার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আনসার ও ভিডিপির এ শক্তিশালী জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা বলয়কে আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রেঞ্জ কমান্ডার ড. মো. সাইফুর রহমান জানান, সাতটি জেলার ১৫টি মেডিকেল ক্যাম্পের জন্য সেসব এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে মানুষের চিকিৎসাসেবা সংকুচিত।

 তিনি বলেন, ‘মহাপরিচালকের মানবিক প্রশাসনের আওতায় ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ চিকিৎসা, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং চক্ষু চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবা দুর্গম এলাকায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা সুশাসনের জন্য প্রশাসন ধারণার একটি বাস্তব ও সফল প্রতিফলন।’

কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বসুন্ধরার আদ্-দীন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও নিউরোসার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘পোর্টেবল ল্যাব, জেনারেটর এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এ চিকিৎসাসেবা প্রদান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মানবিক প্রশাসনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’ 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান মৃদুল’স কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৃদুল হাসান বলেন, আধুনিক চিকিৎসা বঞ্চিত দুর্গম এলাকাগুলোতে বিশেষ করে নারীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারা ছিল অত্যন্ত আত্মতৃপ্তিদায়ক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য অভিজ্ঞতা। উল্লেখ্য, এ কর্মসূচির প্রথম পর্বে দেশের সাতটি জেলার বগুড়া, জামালপুর, ভোলা, লালমনিরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজার প্রত্যন্ত এলাকায় মোট ৮ হাজার ৭২৭ জন রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি মেডিকেল ক্যাম্পে আধুনিক হাসপাতালের আদলে ৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা ছিল, যা গ্রামীণ জনগণের জন্য এক নতুন ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেছে।

ক্যাম্পেইনের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২১৯ জন রোগীর বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি ইসিজি, সিবিসি ও কিডনি পরীক্ষাসহ প্রায় ৫৩ লাখ ১৫ হাজার টাকার ডায়াগনস্টিক সেবা এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকার ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। 

সব মিলিয়ে প্রথম পর্বে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার ১০০ টাকার স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হয়েছে, যা প্রান্তিক অঞ্চলে মানবিক স্বাস্থ্যসেবার তীব্র চাহিদাকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কেবল নিরাপত্তা রক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় অংশীজন হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও সম্প্রসারিত হলে তা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জনগণের সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ইএইচ

Link copied!