Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

জীবনমানের গুণগত পরিবর্তনই উন্নয়নের সুফল

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ৬, ২০২২, ০৫:১৪ এএম


জীবনমানের গুণগত পরিবর্তনই উন্নয়নের সুফল

মানুষ উন্নয়নপ্রত্যাশী। উন্নয়ন মূলত মানুষের প্রচেষ্টার ফল। দারিদ্র্য বিমোচনের ধারা কিন্তু আশির দশক থেকেই শুরু হয়, যা সময়ের সাথে সাথে ত্বরান্বিত হয়েছে। ওই সময় একটা সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে দারিদ্র্যকে দেখা হতো। 

যেমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দূর হলে শ্রমজীবী মানুষের আয় ক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু স্বাস্থ্য সমস্যায় জর্জরিত থাকলে তা হবে না। আশি ও নব্বইয়ের দশকের বড় অংশই ছিল বৈদেশিক সহায়তা-ত্বাড়িত উন্নয়ন। তখন বাংলাদেশ এত সম্পদশালী ছিল না। 

এরফলে বড় সহায়তা এসেছে আন্তর্জাতিক সাহায্য থেকে। তখন আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কম খরচে সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা বা মানবসম্পদ উন্নয়নে আমাদের এনজিওগুলোর অবদান। তখন সৃজনশীল উপায়ে আন্তর্জাতিক সাহায্যের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের জন্য বেসরকারি খাতে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক উদ্ভাবন হয়েছে। 

সামাজিক উদ্ভাবন ও বৈদেশিক সহায়তার যথাযথ ব্যবহার এবং এ দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রীয় সম্মতি ও সহযোগিতা— এসব মিলিতভাবে বাংলাদেশের মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। অল্প ব্যয়ে অর্জিত এ মানব উন্নয়ন পরবর্তী সময়ে আয়-সংক্রান্ত দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। এমডিজি-পরবর্তী সময়ে সংকটটা একটু অন্যরকম। এখন কম খরচে সমস্যা সমাধানের পথটি সংকুচিত হয়ে এসেছে। যেমন সাম্প্রতিক সময়ের চ্যালেঞ্জ নতুন দরিদ্র।

একাধিক বেসরকারি সংস্থার জরিপে বলা হয়েছে যে, করোনা মহামারিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে। এখন দ্রুত সাহায্য ও সহায়তা দিয়ে তাদের দারিদ্র্যসীমার ওপরে না আনতে পারলে এটা দীর্ঘস্থায়ী আর্থসামাজিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। একটি দীর্ঘস্থায়ী হতদরিদ্রের মধ্যে থাকা পরিবার এবং করোনা সংকটে সাময়িক দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে যাওয়া পরিবার-দুটির ক্ষেত্রে সাপোর্ট ম্যাকানিজম ভিন্ন হবে। 

উদ্বেগের বিষয় এই যে, আমাদের বেসরকারি সংস্থা প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পরে একটা নির্দিষ্ট সময়ে এত ব্যাপক-সংখ্যক জনগোষ্ঠী এত অল্প সময়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নামেনি। এ অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য নতুন। সেটিও আরেকটা দিক। 

এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, সরকারের ব্যবস্থাপনা সামর্থ্য কতটা? নতুন যারা দরিদ্র হলো, তাদের কোন পথে সাহায্য করা যায় এবং সাহায্য প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারের সক্ষমতা কতটুকু প্রভৃতি চ্যালেঞ্জ তো আছেই। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকালে বাংলাদেশ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। 

আজ ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে তা বেশ কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকির মুখে। করোনা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ কেবল বাংলাদেশকেন্দ্রিক নয়, অন্য অনেক উন্নয়নশীল দেশও বহু অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকির মুখোমুখি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত জনবহুল দেশে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে গত ৫০ বছরে অর্জিত সামাজিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে করোনা সংকট ও এর তাৎপর্য একটু ভিন্ন বলতে হয়। 

এক অর্থে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্থায়িত্ব একটি পরীক্ষার মুখে পড়েছে। আমরা দুর্যোগের সময় সাম্প্রতিক সময়ে অর্জিত সামাজিক অগ্রগতি কীভাবে ধরে রাখতে পারছি, তার মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হবে আমাদের উন্নয়ন কতটা টেকসই আরো আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, শিক্ষা, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ক্ষেত্রে নারীশিক্ষায় অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে পারছি কি-না। 

অন্যটি হলো, নারী উন্নয়ন বা কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশ গ্রহণের হার স্থিতিশীল থাকছে কি-না। পাশাপাশি অগ্রগতি না হওয়া বা পিছিয়ে থাকা সামাজিক সূচকগুলোয় আরো অবনতি হয়েছে কি-না এবং করোনা-পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান সংকট বাড়ছে কি-না। যেমন বাল্যবিয়ে, খাদ্য নিরাপত্তা ও তরুণদের কর্মসংস্থান। প্রতিটি বিষয়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

কারণ সামগ্রিকভাবে এগুলো মানব-উন্নয়নের সূচক। একই সাথে এগুলো সবই টেকসই উন্নয়নেরও মাত্রাভিত্তিক নির্দেশক। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির কিংবা জিডিপির প্রবৃদ্ধির বিষয় নয়, এটি একই সাথে মানুষের জীবনের গুণগত মানের পরিবর্তনেরও গল্প। কোনো দরিদ্র দেশ উন্নত দেশগুলোর হাত ধরে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে যায়। এক সময় উন্নয়নের ধারা বেগবান হলে সবাই প্রত্যাশা করে টেকসই পথে নিজস্ব সম্পদ সঞ্চালন করে দেশটি এগিয়ে যাবে, উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের খাতায় নাম লেখাবে। 

আন্তর্জাতিক ঋণ ও বৈদেশিক সাহায্যনির্ভরতা কমবে, সেটিই প্রত্যাশিত— আমাদের এনজিও খাতে প্রস্তুতির অভাব ছিল। বহু বছরের সাহায্যপ্রাপ্তি এক ধরনের পরনির্ভরশীল মানসিকতারও সৃষ্টি করেছে। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম যে বৈদেশিক সহায়তা প্রবাহ সামনেও অব্যাহত থাকবে। 

এ জায়গায় চিন্তার ঘাটতি ছিল এবং তাতে পরিবর্তন আসা দরকার। সাহায্যনির্ভর মানসিকতা একার্থে আমাদের বেসরকারি উন্নয়ন খাতের একটি দুর্বলতা। দেশ বিভিন্ন খাতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন সত্ত্বেও সামাজিক পরিবর্তনে নিয়োজিত দেশীয় উন্নয়ন সংস্থার অনেকগুলোই রয়ে গেছে সাহায্যনির্ভর।

আমাদের এনজিও খাতে দেশের অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সাহায্যনির্ভর অনুন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ আজ প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে। করোনার প্রভাব অনেক স্বল্প আয়ের দেশগুলোয় অনেক বেশি পড়েছে। 

যেখানে দারিদ্র্যের হার আরো বেশি, সেখানে আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজনটাও আরো বেশি। এমন এক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এবং এনজিও খাতের  নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, অনেক এনজিও মুনাফাভিত্তিক একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। কিছু এনজিও লাভজনক একাধিক খাতে যেমন আবাসন ব্যাংকিং, তৈরি পোশাক, তৈরি খাদ্য, পোলট্রি সক্রিয়। এ ধরনের বাজারমুখী কর্মকাণ্ড এক অর্থে আমাদের এনজিও খাতে আত্মনির্ভরশীলতার বহিঃপ্রকাশ, যা কি-না অনেক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। 

সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, যা উপেক্ষিত রয়ে গেছে। আমরা মাথাপিছু আয় বাড়ানোর পাশাপাশি অন্য বিষয়গুলোয় খুব একটা দৃষ্টিপাত করিনি। মাথাপিছু আয় শুধু ক্রয়ক্ষমতা বা জীবনমানের একমাত্র সূচক নয়, এটি অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও সক্ষমতারও একটা নির্দেশক। সেই সাপেক্ষে যদি ব্যবস্থাপনা ও দেশ পরিচালনাসংক্রান্ত সূচকে উন্নতি না হয়, তাহলে পুরো অর্জনটাই প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। আমরা বলছি অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বর্ধিত মাথাপিছু আয়ের দেশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, দরিদ্র লোকের পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ্য প্রভৃতির সাপেক্ষে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। 

করোনা সংকটকালে এ দুর্বলতাগুলো আরো সুস্পষ্ট হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ যথেষ্ট শক্তিশালী। তা ছাড়া সরকার প্রদত্ত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে অর্থনৈতিক সংকটের বড় রকম প্রভাব দৃশ্যমান নয়। সে ক্ষেত্রে সামাজিক সংকট মোকাবিলায় দ্বিধাদ্বন্দ্ব, অসঙ্গতি বা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার অজুহাত কাম্য নয়। 

মহামারিকালীন সামষ্টিক প্রবৃদ্ধির দাবি সঠিক হলে রাষ্ট্রের ব্যয় ক্ষমতারও সম্প্রসারণ হচ্ছে, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ এমনটি প্রত্যাশা করে। কাজেই সংকটকালে নাগরিকদের নগদ অর্থসহায়তা দিয়ে সাময়িকভাবে এটি মোকাবিলাকে বোঝা হিসেবে দেখলে চলবে না। মহামারিকালীন সামষ্টিক প্রবৃদ্ধির অর্জন যদি সত্য হয়, তবে সে দাবির জনসম্পৃক্তি থাকা বাঞ্ছনীয়। 

আমাদের কৃষক, রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও পোশাক শিল্পের কর্মী বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টারই ফল আমাদের আজকের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। সংকট কালীন মুহূর্তে তারা উপেক্ষিত হোক, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা নীতিগত ঘাটতি এবং নিজ উদ্যোগের অভাব সরকারপ্রদত্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নসংশ্লিষ্ট সূচকগুলোকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করছে। 

এসব কারণে সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে সংশয় এবং সন্দেহ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি করছে। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে চিন্তা করলে দেখা যাবে প্রস্তাবিত নীতিগুলো একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আসছে না।

যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলো যেখানে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর বাড়িয়ে বা ধনীদের ওপর সম্পদ কর আরোপের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে হস্তান্তর করছে, সেখানে বাংলাদেশ উল্টো পথে হাঁটছে। 

করোনার মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠী খারাপ অবস্থায় আছে আর শিল্পগুলো বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করছে। অনেক শিল্পপতি আরো বিত্তবান হচ্ছেন। আবার তাদেরই বেশি ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে, করছাড় দেয়া হচ্ছে।

আমাদের প্রতিবেশী ভারত এর প্রমাণ, গত এক বছরের বেশি সময়ে দারিদ্র্যতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি ৩৮ জন ভারতীয় ব্যবসায়ী নব্য ধনীর (বিলিয়নিয়ার) কাতারে যোগ দিয়েছেন। সরকারের প্রণোদনা নীতি আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশও একই রকম নতুন অর্থনৈতিক বৈষম্যের সৃষ্টি করবে। 

সেই বিবেচনায় যখন দরিদ্র জনগণের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয় না, তখন সরকারের সদিচ্ছা ও জনপ্রতিনিধিত্ব ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, বিশ্বব্যাপী করোনাকালে বেকারত্বের হার বেড়েছে। কিন্তু এটিও সত্য যে, এ পরিস্থিতি সাময়িক। কারণ যখন সংকট আসে তখন ব্যক্তি খাতের নিয়োগকর্তারা চাহিদার সংকোচন বিবেচনায় উৎপাদন কমিয়ে আনেন। তারই অংশ হিসেবে শ্রমের চাহিদাটাও কমে। 

কিন্তু খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটা প্রত্যাশিত যে, সংকটের সময়ে বেকারত্বের হার বাড়বে। তবে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি পুনরুদ্ধার না করতে পারলে বা দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বড় শঙ্কার। এতে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ যেহেতু দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভর  করে, সেহেতু এর সাথে খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার ইস্যুও যুক্ত। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় অপ্রতুল। 

সেটাকে বিবেচনা করলে অবশ্যই নতুন বেকারত্ব চিন্তার বিষয়। করোনা মহামারি পর্বোত্তর বিভিন্ন গবেষণা থেকেই একটা প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে বারবার উঠে এসেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনায় আমরা কি যথেষ্ট পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছি কি-না। প্রাসঙ্গিকভাবে নারীদের কথাই ধরা যাক। আগের ১০ বছরে পোশাক শিল্পের বাইরে ব্যাপক আকারে তাদের কর্মসংস্থানে তেমন অগ্রগতি নেই। 

একইভাবে এটাও সত্য যে, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে এমন একটি সময়ে যখন আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর পেশাজীবীদের জন্য বাংলাদেশ খুবই আকর্ষণীয় শ্রমবাজার।

মহামারি পর্বোত্তর সময়ে ২০১৯ সালের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে তরুণদের বেকারত্বের হার ১২ শতাংশ। ফলে এখানে একটা বড় প্রশ্ন চলে আসছে, আমাদের যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, তা কার জন্য? 

উন্নয়নের সুফল কারা পাচ্ছে এবং কোথায় যাচ্ছে? প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক যে গ্র্যাজুয়েট পাস করে বের হচ্ছেন, তাদের ভবিষ্যৎ কী? এসব প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। এমনকি মহামারিতে বাংলাদেশে শ্রমবাজারের বিদ্যমান ঘাটতিগুলো আরো প্রকট হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়গুলো অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ চিন্তার দাবি রাখে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে একটা স্বচ্ছ জায়গায় আসতে হবে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। ব্যাপকতর অর্থে উন্নয়নের যুদ্ধ হচ্ছে জীবনের গুণগত মানের অগ্রগতি নিশ্চিত করা। 

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট