স্পোর্টস ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ডামাডোল বেজে উঠেছে। আজ সুইজারল্যান্ডের নিয়নে উয়েফার সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ড্র অনুষ্ঠানে নির্ধারিত হয়েছে শেষ ১৬-র ভাগ্য।
এবারের ড্রয়ে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হওয়া। আগামী ১০ মার্চ ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।
রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার সিটি, দুই দলের জন্যই এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল রিয়াল মাদ্রিদ চাইবে তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে।
অন্যদিকে পেপ গার্দিওলার সিটি গত কয়েক মৌসুম ধরে ইউরোপ জয়ের যে মিশন চালাচ্ছে, তাতে রিয়ালের মতো পাহাড়সম প্রতিপক্ষকে টপকানোই হবে তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। প্রথম লেগের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১০ মার্চ, যা ফুটবল ভক্তদের জন্য এক চরম উত্তেজনার রাত হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রিয়াল মাদ্রিদ যখন আগুনের গোলার মুখোমুখি, তখন তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট কাতালান জায়ান্টরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে। কাগজে-কলমে বার্সেলোনা অনেকটা এগিয়ে থাকলেও নিউক্যাসলকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যদিও সেন্ট জেমস পার্কের দলটির বর্তমান সময়টা ভালো যাচ্ছে না।
প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের ১১ নম্বরে থাকা নিউক্যাসল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটে পা রেখেছে টেবিলের ১২ নম্বর দল হিসেবে। তবে নকআউট পর্বে যে কোনো কিছুই ঘটার সম্ভাবনা থাকে, যা বার্সেলোনার জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে।
এবারের শেষ ১৬-র ড্র কেবল রিয়াল ও সিটিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি ম্যাচই যেন এক একটি ছোট ফাইনাল। ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজির সামনে এবার ব্লুজদের বাধা। চেলসির রক্ষণ বনাম পিএসজির আক্রমণভাগের লড়াইটি হবে দেখার মতো। দিয়েগো সিমিওনের রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে টটেনহ্যামের আক্রমণাত্মক ফুটবল কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে।
প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা গানার বা আর্সেনাল মুখোমুখি হবে জার্মান জায়ান্ট লেভারকুসেনের। বায়ার্ন মিউনিখ ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে আটালান্টার বিপক্ষে, তবে দলটির অঘটন ঘটানোর ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। অলরেড বা লিভারপুল প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে তুর্কি ক্লাব গ্যালাতসারেকে।
উয়েফা কেবল শেষ ১৬ নয়, বরং কোয়ার্টার ফাইনালের পথরেখাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। ড্রয়ের নিয়ম অনুযায়ী রিয়াল বা সিটি ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে বায়ার্ন অথবা আটালান্টা ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে। পিএসজি বা চেলসি ম্যাচের বিজয়ীর সামনে পড়বে লিভারপুল অথবা গ্যালাতসারে ম্যাচের জয়ী দল।
বার্সেলোনা বা নিউক্যাসল জয়ী দল মোকাবিলা করবে অ্যাতলেটিকো অথবা টটেনহ্যাম ম্যাচের জয়ীকে। আর্সেনাল যদি পরের ধাপে ওঠে, তবে তাদের লড়তে হবে স্পোর্টিং সিপি বা বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে।
ইউরোপ জয়ের এই মহাযজ্ঞের চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শেষ ১৬-র প্রথম লেগ ১০ ও ১১ মার্চ এবং দ্বিতীয় লেগ ১৭ ও ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগ ৭ ও ৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় লেগ ১৪ ও ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এবং ৫ ও ৬ মে। এই আসরের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩০ মে, ২০২৬ তারিখে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায়।
নেইমার যখন মাঠের পারফরম্যান্সে সমালোচকদের জবাব দিচ্ছেন, তখন মাঠের বাইরের এই ড্র বিশ্লেষণ ফুটবল পাড়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ কি পারবে তাদের রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে, নাকি ম্যানচেস্টার সিটি তাদের আধুনিক ফুটবলের দাপট দেখাবে তা দেখার বিষয়। নাকি সব হিসেব পাল্টে দিয়ে বার্সেলোনা বা আর্সেনাল ছিনিয়ে নেবে মুকুট, তার উত্তর মিলবে আগামী মে মাসে বুদাপেস্টের সেই ঐতিহাসিক রাতে।
জেএইচআর