ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জন্মের পরদিন থেকেই দুধ দিচ্ছে ১৭ দিনের বাছুর

এম এ জলিল, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ

এম এ জলিল, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৩:৫৪ পিএম

জন্মের পরদিন থেকেই দুধ দিচ্ছে ১৭ দিনের বাছুর

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম হঠাৎ সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাত্র ১৭ দিনের এক বাছুর দুধ দিচ্ছে—যে বয়সে সাধারণত মায়ের দুধ খেয়ে টিকে থাকার কথা, সেই বয়সেই বাছুরটি দুধ দিচ্ছে। 

এই বিরল দৃশ্য গ্রামের সীমা ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে বিস্ময় ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

কৃষক মো. হারুন অর রশিদের বাড়ি এখন ভিড়ে ঠাসা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষ আসছেন এই বিরল বাছুরটি দেখার জন্য।

হারুন জানান, দুই বছর আগে ৭৫ হাজার টাকায় তিনি গাভীটি কিনেছিলেন। সম্প্রতি গাভীটি একটি বাছুর প্রসব করে। জন্মের প্রথম দিন থেকেই বাছুরের থনে দুধ জমতে শুরু করে। প্রথমে পরিবারের কেউ বিশ্বাস করতে পারেননি, পরে নিয়মিত দোহন শুরু করেন।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “এমন ঘটনা জীবনেও দেখিনি। মা ও বাছুর একই সঙ্গে দুধ দিচ্ছে—চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।”

করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এম এম এ আউয়াল তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। সাধারণত জন্মের কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কোনো বাছুর দুধ উৎপাদনে সক্ষম হয় না। এখানে সম্ভবত হরমোনের অস্বাভাবিক সক্রিয়তার কারণে বাছুরের স্তন্যগ্রন্থি দ্রুত বিকশিত হয়ে দুধ উৎপাদন শুরু করেছে।”

তিনি ধারণা করছেন, মিল্কবিট লেয়ারের বিশেষ হরমোনগুলো জন্মের পরপরই সক্রিয় হয়ে গেছে। তবে প্রকৃতির আকস্মিক জৈববিক বিকৃতি নাকি অন্য কোনো জেনেটিক কারণ—এ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

ঘটনাটি নিয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ইতিমধ্যেই একটি গবেষণা কমিটি গঠন করেছে। মা গাভী ও বাছুরের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করছে একটি মেডিকেল টিম। দুধের মান ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দুধ স্বাভাবিক এবং পুষ্টিগুণসম্পন্ন।

গ্রামের মানুষের কাছে এটি শুধু বিস্ময় নয়, আনন্দ ও গর্বের বিষয়ও হয়েছে। স্থানীয় কলেজছাত্রী সাবিহা রোবার মন্তব্য, “এমন ঘটনা হয়তো টেলিভিশনের বিদেশি ডকুমেন্টারিতে দেখি। কিন্তু আমাদের গ্রামে ঘটছে, এটা ভেবে গর্ব হচ্ছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলোতে অনেকেই লিখেছেন, “এখন থেকে গরু ও বাছুর দুজনকেই দোহন করতে হবে।”

পশু চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এ ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা প্রজনন স্বাস্থ্য ও জেনেটিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও হতে পারে। বৈজ্ঞানিকভাবে এর সঠিক ব্যাখ্যা জরুরি।

করিমগঞ্জের প্রবীণ কৃষক আক্কাছ মিয়া বলেন, “আমাদের সময়ে অদ্ভুত কাহিনি শুনতাম, আজ বিজ্ঞানের যুগে বাস্তবে দেখছি। গবেষণায় প্রমাণিত হলে দেশ নতুন কিছু শিখতে পারবে।”

একটি গ্রামের উঠোন থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন জাতীয় কৌতূহলের বিষয়। প্রকৃতির ব্যতিক্রমী আচরণ নাকি জৈববিজ্ঞানের নতুন ইঙ্গিত—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের গবেষণা। আপাতত পূর্ব চরকরণশী গ্রামের মানুষজন এই বিরল বাছুরটিকে “তারকা” হিসেবে দেখছেন।

ইএইচ

Link copied!