হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
অক্টোবর ৬, ২০২৫, ০৪:০৩ পিএম
তিস্তার প্রবল পানি প্রবাহ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, কিন্তু লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চরাঞ্চল ও কিছু কিছু সড়কপথ এখনো প্লাবিত রয়েছে। জনদুর্ভোগে সময় পার করছেন তিস্তা পারের মানুষ।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে রোববার রাতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাট বাইবাস সড়কটি নিমজ্জিত হয়ে পানি প্রবাহ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
ওই রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে মাইকিং করে রেড অ্যালার্ট জারি করে তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। জানমালের যেন ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সেই লক্ষ্যে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা নদী তীরবর্তী এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকি করেন।
সোমবার দুপুরে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপরে।
অর্থাৎ, নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। রোববার রাতে এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে।
স্থানীয়রা জানান, নদী তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে থাকায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বহু পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে।
গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এখনও আমার ইউনিয়নের ৫০০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে। শুকনা খাবার ও ত্রাণ সহায়তা এখন সবচেয়ে জরুরি। রাস্তা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের কিছু গেট বন্ধ করা এবং উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তায় পানি হ্রাস পাচ্ছে। তবে এখনও নদী তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
ইএইচ