ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেলে সাপে কাটার রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ ওয়ার্ড চালু

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী

অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৪:৩৮ পিএম

রাজশাহী মেডিকেলে সাপে কাটার রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ ওয়ার্ড চালু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সাপে কাটার রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সাপে কাটায় মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডের উদ্বোধন করেন। 

হাসপাতালের পুরোনো ক্যানটিনের জায়গায় ১২ শয্যার এই হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) মানের ওয়ার্ডে সাপে কাটা রোগীদের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা ও অন্যান্য জটিলতারও চিকিৎসা করা হবে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নতুন এই ওয়ার্ডে আটজন পুরুষ ও চারজন নারী রোগীর জন্য শয্যা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে জরুরি রোগীদের ওয়ার্ডের বাইরেও চিকিৎসা দেওয়া হবে। ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি বর্তমানে রাসেলস ভাইপার সাপের বিষ নিয়ে পিএইচডি করছেন, যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১,২০৫ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২৬০ জন বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ৩০ জন রোগী—রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ১০ জন, বাকিরা কালাচ, কেউটে ও গোখরার কামড়ে প্রাণ হারান।

মৃত্যুহার কমাতে রামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহাম্মদের নেতৃত্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এইচডিইউ মানের একটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে চিকিৎসক ও নার্সদের ‘স্নেকবাইট ন্যাশনাল গাইডলাইন’ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ওয়ার্ডটি উদ্বোধনের মাধ্যমে চালু করা হলো।

ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুহার ছিল ২৭ শতাংশ। এখন চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে তা অনেক কমে এসেছে। নতুন বিশেষায়িত ওয়ার্ডে সমন্বিত চিকিৎসা দেওয়া যাবে। এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স থাকবেন এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত থাকবে। এতে মৃত্যুহার আরও কমে আসবে।”

তিনি জানান, সাপে কাটা রোগীদের প্রতিটি অ্যান্টিভেনম ডোজের মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এক ডোজে ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম লাগে, আবার অনেক রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক ডোজও প্রয়োজন হয়। তবে রোগীরা হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এসব ওষুধ পাবেন। “রোগী ওয়ার্ডে আসার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হবে, এক মিনিটও দেরি করা হবে না,” বলেন তিনি।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, “সাপে কাটা রোগীরা অনেক সময় দেরি করে হাসপাতালে আসেন। আগেও বড় ওয়ার্ডের এক কোণায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। এখন আলাদা ওয়ার্ড থাকায় তা হবে না। এখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতিতে মেডিকেল ইমার্জেন্সি ইউনিট–এইচডিইউ সুবিধা থাকবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজশাহীর এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে সাপে কাটার চিকিৎসার একটি মডেল গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে সাপের কামড়ে মৃত্যুহার কমে আসবে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।

ইএইচ

Link copied!