রাকিবুল হাসান, রাজশাহী
জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারীর বৈধ ডিশ সংযোগ ও ব্যবসা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার দুপুর ২টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ডিশ ব্যবসায়ী মোসা. ফাইমা খাতুন। এ ঘটনায় নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম এবং হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন প্রতিবাদ জানিয়ে সমর্থন দেন।
লিখিত বক্তব্যে ফাইমা খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী শাহ মো. শরিফুল ইসলাম রাজু ২০১০ সাল থেকে বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নিয়ম মেনে ডিশ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগ নেতা ইমন তাদের ব্যবসায় হামলা চালিয়ে মেশিন ও তার নিয়ে যান এবং তাকে ও তার সন্তানদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই ঘটনার পর তার স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি নিজেই ব্যবসার দায়িত্ব নেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম তাদের ডিশ ব্যবসা ও সংযোগ জোরপূর্বক দখল করেন। এ বিষয়ে তিনি থানা-পুলিশ, সেনাবাহিনী, ইউএনও, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
ফাইমা খাতুনের ভাষ্য, সম্প্রতি বিষয়টি মীমাংসার জন্য উপজেলা বিএনপির নেতাদের উদ্যোগে আলোচনার কথা হলে তিনি ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আসাদুল ইসলামের অফিসে যান। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে আসাদুল ইসলাম তাকে গালিগালাজ করেন, গলার চেইন ও ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া করেন, চুল টানেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের যে অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ফাইমা খাতুনের বৈধ ব্যবসা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কেউ থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না।”
এএন