ইয়ামিন হাসান, সাঘাটা
অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৩:৪৫ পিএম
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পের কাজ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নয়টি ছোট প্রকল্পের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ পায় সুন্দরগঞ্জের ‘মেসার্স নাজিফা কনস্ট্রাকশন’।
প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয় ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫০ টাকা। চুক্তি ও কার্যাদেশ প্রদান করা হয় ২০২৫ সালের ৪ জুন এবং কাজ শুরুর তারিখ ধরা হয় ৫ জুন।
চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সব কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজ এখনো শুরু হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত কাজগুলোর মধ্যে ছিল—বোনারপাড়া ইউপি’র ১নং ওয়ার্ড হেলেঞ্চা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে অযুখানা নির্মাণ, ৩ নং ওয়ার্ডে পশ্চিম শিমুলতাইড় রেলওয়ে কবরস্থানের রাস্তা, পদুমশহর ইউনিয়নের চকদাতেয়া মৌজার বিলের বাতার রাস্তা, ভরতখালী ইউনিয়নের সাকোয়া কলোনীতে রাস্তা সিসিকরণ এবং উল্যা জামে মসজিদের পাশ থেকে দারুন নাজাত কবরস্থান পর্যন্ত গাইডওয়াল নির্মাণসহ মোট নয়টি উন্নয়ন কাজ।
কিন্তু সরেজমিনে ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে ভরতখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে সাকোয়া কলোনীর মোফাজ্জল হোসেনের বাড়ি থেকে মসজিদ অভিমুখে রাস্তা সিসিকরণের কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বর্ষার সময় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা জমে থাকে, মুসল্লিরা মসজিদে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “রাস্তা হবে শুনে আমরা খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু কাজ তো শুরুই হয়নি। বৃষ্টি আসলে হাঁটাচলা করা যায় না, নামাজে যেতেও কষ্ট হয়।”
এছাড়া ভরতখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে উল্যা জামে মসজিদের পাশ থেকে দারুন নাজাত কবরস্থান পর্যন্ত প্যালাসাইডিং করার কথা থাকলেও কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চার মাস পার হয়ে গেছে, তবুও কোনো কাজ শুরু হয়নি। এ বিষয়ে উত্তর উল্যা ইউপি সদস্য এস এম মিজানুর রহমান বলেন, “ঠিকাদারের সাথে আমরা যোগাযোগ করতে পারছি না। অবিলম্বে কাজ শুরু হওয়া জরুরি। কাজ শুরু না করায় এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে, কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নয়ন রায় মুঠোফোনে বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিল প্রদান করা হয়নি। কাজটি শুরু করতে সময়ক্ষেপণ করছে ঠিকাদার। তবে অচিরেই শুরু হবে।”
ইউএনও মীর মো. আল কামাহ্ তমাল বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
জনপ্রতিনিধি, স্থানীয়রা ও সচেতন মহল মনে করেন, এডিপির মতো প্রকল্প নিয়মমাফিক সমাপ্ত না হলে সরকারের উন্নয়ন ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
ইএইচ