ইয়ামিন হাসান, সাঘাটা
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৪:০৩ পিএম
এক সময় যে জমিগুলো ছিল অনাবাদি কিংবা অল্প ফলনের ধানের ওপর নির্ভরশীল, সেই জমিগুলোতেই এখন মিষ্টি আলুর সবুজ বিপ্লব।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কচুয়া ও রামনগর এলাকাজুড়ে মিষ্টি আলু চাষ বদলে দিয়েছে এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগেও এই এলাকায় মিষ্টি আলু চাষ ছিল সীমিত। তখন কৃষকরা প্রধানত ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু জমির প্রকৃতি ধান চাষের জন্য উপযোগী না হওয়ায় ফলন কম হতো। অনেক জমি পরিত্যক্ত থাকত। উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ না থাকায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে মিষ্টি আলু চাষের বিস্তারের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। বর্তমানে এই দুই মৌজায় প্রায় ২১৬ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের হাইব্রিড মিষ্টি আলুর চাষ হচ্ছে।
কৃষকদের মতে, প্রতি শতকে গড়ে আড়াই থেকে তিন মণ আলু উৎপাদন হয়। বাজারে প্রতি মণ আলু ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪শ’ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে কৃষকদের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে মিষ্টি আলু।
মিষ্টি আলু চাষের বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প মেয়াদ। মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ পাওয়া সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জমি থেকেই আলু বিক্রি করা যায়। পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে আলু সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন।
রামনগর গ্রামের কৃষক সালজার রহমান বলেন, আগে ধান চাষ করতাম, ফলন খুব একটা হতো না। অনেক জমি ফাঁকা পড়ে থাকত। এখন সব জমিতে মিষ্টি আলু করছি। খরচ কম, লাভ বেশি। এবার ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। ভালো আয়ের আশা করছি।
পশ্চিম কচুয়া মৌজার কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, মিষ্টি আলু চাষ করে এখন সংসারের অভাব অনেকটাই দূর হয়েছে। আগে যে জমি পরিত্যক্ত ছিল, এখন সেখান থেকেই আয় হচ্ছে।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান বলেন, মিষ্টি আলু একটি কন্দজাতীয় ফসল। বৈরি আবহাওয়ায় এ ফসলের ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়। অল্প সময়ে কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, কচুয়া ইউনিয়নের মাটি ও আবহাওয়া মিষ্টি আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মিষ্টি আলু চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
অল্প খরচে দ্রুত ফলন ও নিশ্চিত বাজার থাকায় কচুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কচুয়া ও রামনগর এলাকায় ধানের আবাদ ছেড়ে ক্রমেই মিষ্টি আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এক সময়ের অনাবাদি জমি এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক উৎপাদনের কেন্দ্রে, যা বদলে দিচ্ছে এলাকার অর্থনৈতিক অগ্রগতির বাস্তবতা।
ইএইচ