ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

পাকুন্দিয়ায় জনপ্রিয়তায় রয়েছে বাঁশ দিয়ে তৈরি সিলিং বেড়া

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

পাকুন্দিয়ায় জনপ্রিয়তায় রয়েছে বাঁশ দিয়ে তৈরি সিলিং বেড়া

বাঁশ দিয়ে তৈরি ঘরের সিলিং বেড়া, যা স্থানীয়ভাবে ‘গরিবের এসি’ নামে পরিচিত, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় এখনও বেশ জনপ্রিয়। আধুনিক যুগে বিকল্প সামগ্রীর ব্যবহার বাড়লেও এই জনপদের মানুষের কাছে এর কদর কমেনি। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৩০ থেকে ৪০ জন কারিগর এই হস্তশিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বাঁশের তৈরি এই বিশেষ বেড়া বা সিলিং ঘরের ভেতরে রোদের তাপ কমিয়ে দেয়, ফলে গরমে ঘর বেশ ঠান্ডা থাকে। এ ছাড়া এই বেড়ার ওপর অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও রাখা যায়। বিভিন্ন রঙের আল্পনার ছোঁয়ায় এর সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়ভাবে এটি ‘ঘরের কাড়’ নামেও বেশ পরিচিত।

সিলিং বা বেড়া তৈরি করতে সাধারণত তল্লা, মুলি ও নলি বাঁশের প্রয়োজন হয়। দা, হাতুড়ি, করাত ও সুতলী ব্যবহার করে কারিগররা বাঁশ থেকে পাতলা চটা বের করেন। এরপর শীতল পাটির মতো নিপুণ বুনন কৌশলে তৈরি হয় এই দৃষ্টিনন্দন সিলিং। প্রতিদিন তিনজন কারিগর মিলে ৬০ থেকে ৮০ হাত পর্যন্ত সিলিং তৈরি করতে পারেন।

উপজেলার কোদালিয়া চৌরাস্তা, তারাকান্দি, পুলেরঘাট, জাঙ্গালিয়া, মির্জাপুর ও মটখলাসহ বিভিন্ন বাজারে এই শিল্পের প্রসার রয়েছে। বিশেষ করে মলি বাঁশ ব্যবহারের কারণে এর চাহিদা বেশি। এই বাঁশগুলো গাজীপুরের শ্রীপুর, উজলি ও মাওনা এলাকার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কোদালিয়া চৌরাস্তা বাজারে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই কাজ চলছে।

এই শিল্পের প্রধান কারিগর আব্দুল জলিল বলেন, ৩০ বছর ধরে তিনি এই কাজের সাথে যুক্ত। বর্তমান সময়ে বাঁশের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আয় কিছুটা কমেছে, তবুও ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। আরেক কারিগর মেনু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, পরিশ্রম অনুযায়ী পারিশ্রমিক কম হওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তন করছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুউদ্দিন বলেন, কোদালিয়া বাজারে দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি টিকে আছে। কারিগরদের সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস বলেন, বাঁশ ও বেত শিল্প বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই হস্তশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে তাদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

জেএইচআর

Link copied!