রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামে এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ৮০ বছর বয়সী সিদ্দিক হাওলাদার ও ফাতেমা বেগম দম্পতি দারিদ্র্য, রোগব্যাধি আর একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরাতন কাপড় ও ছিঁড়া টিন দিয়ে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরই তাদের একমাত্র আশ্রয়। ঘরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা ন্যূনতম স্যানিটেশন ব্যবস্থা। বৃষ্টি হলে চাল দিয়ে পানি পড়ে ঘরের ভেতর ভিজে যায়, আর কড়া রোদে ঘরটি হয়ে ওঠে তন্দুর চুল্লির মতো তপ্ত। নিজস্ব টিউবওয়েল বা শৌচাগার না থাকায় পানীয় জল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য তাদের পুরোপুরি প্রতিবেশীদের ওপর নির্ভর করতে হয়।
বার্ধক্যজনিত কারণে এই দম্পতি এখন কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। জানা গেছে, তাদের একমাত্র সন্তান জীবিকার তাগিদে আলাদা থাকেন এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে অন্যের দেওয়া খাবার বা সামান্য সাহায্যের ওপর ভিত্তি করেই কোনোমতে বেঁচে আছেন তারা। অনেক সময় দুবেলা খাবার না জুটে অনাহারেও থাকতে হয় তাদের। আক্ষেপ করে তারা জানান, অভাবের তাড়নায় ধুঁকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা বা ভাতা তাদের কপালে জোটেনি।
অসহায় এই দম্পতির মানবেতর জীবনের কথা শুনে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামাল পাশা। এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জীবনের এই শেষ সময়ে সিদ্দিক-ফাতেমা দম্পতি যেন সম্মানের সঙ্গে দুবেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারেন, সেজন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। একটি নিরাপদ বাসস্থান ও নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা এখন এই বৃদ্ধ দম্পতির একমাত্র চাওয়া।
জেএইচআর