এম এ মান্নান, চৌগাছা (যশোর)
জুন ১০, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর থেকে ঝিকরগাছা ও মনিরামপুর উপজেলার চাকলা পর্যন্ত প্রায় ৭৯ কিলোমিটার কপোতাক্ষ নদ খনন ও সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও স্থানীয় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নদীর বিভিন্ন অংশে এখনও দখল, ভরাট ও নাব্যতা সংকট রয়ে যাওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ পুনরুদ্ধার ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হয়। তবে প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও নদীর অনেক স্থানে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়নি। কোথাও কোথাও নদী খাল কিংবা ভাগাড়ের মতো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার সরেজমিনে চৌগাছা পৌর শহরের ব্রিজঘাট এলাকা, চৌগাছা-মহেশপুর সড়কসংলগ্ন নদীপাড়সহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, নদীর বেশ কয়েকটি অংশে দখল, ময়লা-আবর্জনা ও পলি জমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খননের সময় বড় ধরনের উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর তীরবর্তী অনেক জায়গা এখনও প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। দখলমুক্ত না হওয়ায় খননকাজের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম মমিনুল ইসলাম বলেন, “নদীর জমি যেহেতু ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি, তাই দখলমুক্ত করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব হলো নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নাব্যতা সংরক্ষণ করা।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে খননকাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও যদি নদী দখলমুক্ত না হয় এবং জনগণ প্রত্যাশিত সুবিধা না পায়, তাহলে প্রকল্পের কার্যকারিতা কতটুকু অর্জিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী কপোতাক্ষ নদের দখলমুক্তকরণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং খনন প্রকল্পের কার্যকারিতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, নদীকে তার স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রাণ ফিরিয়ে দিতে হলে শুধু খনন নয়, দখলমুক্তকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে।
এএন