জগদীশ মন্ডল, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার এক প্রবাসী বাংলাদেশি লিবিয়ায় অপহরণকারীদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও দেশে ফিরতে পারছেন না। বিমান ভাড়ার অর্থের অভাবে প্রায় দুই মাস ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদিকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্ত্রী।
জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাঁদত্রিশিরা গ্রামের আবু বক্তিয়ারের ছেলে আসাদুল বক্তিয়ার ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর আত্মীয় এরফান সরদারের মাধ্যমে বৈধভাবে ভিজিট ভিসায় লিবিয়ায় যান। সেখানে আনজারা শহরে একটি মসজিদের পাশের টেইলারিং দোকানে কাজ শুরু করেন। তিনি প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পরিবারের কাছে পাঠাতেন।
পরিবারের দাবি, চলতি বছরের রমজান মাসের ৯ তারিখ সেহরি খাওয়ার পর বাসা থেকে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র চক্র আসাদুলকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন আস্তানায় নিয়ে তাকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি জানানো হলে অপহরণকারীরা ৬ লাখ টাকায় আসাদুলকে মুক্তি দিতে রাজি হয়। তবে সেই অর্থ সংগ্রহ করতে পরিবারকে প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়। এ সময়জুড়ে আসাদুলকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
আসাদুলের স্ত্রী নিপা বেগম জানান, স্বামীকে জীবিত ফেরানোর আশায় তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে সুদে ৫ লাখ টাকা এবং বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোট ৬ লাখ টাকা তিন দফায় অপহরণকারীদের দেন।
পরিবারের ভাষ্য, টাকা পাওয়ার পর গত ২০ মে রাতে অপহরণকারীরা চোখ বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় আসাদুলকে। পরে সুমন নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী তাকে উদ্ধার করে নিজের বাসায় নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং আশ্রয় দেন।
বর্তমানে আসাদুল ওই প্রবাসীর বাসাতেই অবস্থান করছেন। তবে উন্নত চিকিৎসা ও দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় দেড় লাখ টাকা বিমান ভাড়া জোগাড় করতে না পারায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
নিপা বেগম বলেন, মুক্তিপণের টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়াতে পেরেছি, কিন্তু তার শরীরজুড়ে এখনো নির্যাতনের ক্ষত। বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পাঠিয়েও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। উন্নত চিকিৎসা এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, স্বামীর অনুপস্থিতিতে ৭ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটছে। মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। এখন বিমান ভাড়ার দেড় লাখ টাকা জোগাড় করার সামর্থ্যও নেই।
নিপা বেগমের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাননি।
তিনি সরকার, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তার অসুস্থ স্বামীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এম জি