Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯

ব্যাংকার্স সভা

রমজানে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ০৮:০০ পিএম


রমজানে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

পবিত্র মাহে রমজানে যাতে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে গভর্নরের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে নিয়মিত ব্যাংকার্স সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও নবনিযুক্ত মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক। তিনি বলেন, চলমান ডলার সংকটের কারণে জরুরী খাদ্যপণ্য আমদানি এলসি যাতে বাধাগ্রস্থ না হয় সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ব্যাংকের বিনিয়োগে সর্বোচ্চ সুদ হার নিয়ে দুই রকম বক্তব্য দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ-এবিবি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এবিবি জানিয়েছে, মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী ভোক্তা ঋণের সুদ হার ১২ শতাংশে উন্নীত করেছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে এ ধরনের কোন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে ভোক্তা (ব্যক্তিগত, গাড়ি ইত্যাদি) ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফেলেছে অনেক ব্যাংক।

এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ভোক্তা ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার মৌখিকভাবে ১২ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে আমরা বাস্তবায়নও করেছি। সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি করছে। কোন ব্যত্যয় বা অনিয়ম পেলে নিশ্চয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, মাসখানেক আগে আমানতকারীরা টাকা উঠিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু বিশ্বাসের সেই সংকট কেটে গেছে। আমানতকারীরা পুনরায় টাকা ফেরত দিচ্ছেন, ব্যাংকে রাখছেন। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমে এসেছে। সহসাই ডলারসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি।

অন্যদিকে মুখপাত্র জানান, ব্যাংক ঋণের সুদ হার বৃদ্ধির বিষয়ে কোন মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদের বিষয়টি সার্কুলার জারি করে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে বাড়ানোর প্রয়োজন হলে আবারো প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

তিনি বলেন, দেশে কোন খাদ্য সংকট তৈরি না হয় সেজন্য কৃষি ঋণ বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না তাদের টাকা অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে হলেও কৃষকের কাছে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সম্প্রতি টাকা জমা দিতে গেলে বিভিন্ন আমানতকারী ব্যাংকারদের জবাবদিহিতার শিকার হচ্ছেন। তাই অন্তত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে যাওয়া কোন গ্রাহককে অতিরিক্ত প্রশ্নের মুখোমুখি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, হুন্ডি বন্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে যাতে কোন টাকা পাচার না হয় সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে মেজবাউল হক জানান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক। এখানে গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিশ্চয়তা রয়েছে। সেখানে কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইন্সপেকশন বিভাগ। ইন্সপেকশন শেষ হলে সে বিষয়ে জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন নতুন মুখপাত্র।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধিদের উন্নত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি প্রচলিত অ্যাপস ব্যবহারে বিড়ম্বনায় পড়ছেন প্রতিবন্ধিরা। তাই তাদের জন্য উপযোগী অ্যাপস তৈরির পরিকল্পনা করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত রেট মেনে চলতে বলা হয়েছে।

টিএইচ

Link copied!