Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯

পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে

ভোমরা স্থলবন্দরে সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ০২:৩১ পিএম


ভোমরা স্থলবন্দরে সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি

পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ব্যাপক সম্ভাবনাময় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর। ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে এই বন্দরে বেড়েছে পণ্য রপ্তানি। মহামারি করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বন্দরটিতে রাজস্ব আয়ও বাড়তে শুরু করেছে। 

চলতি অর্থবছরে প্রথম ৬মাসে পূর্বের একই সময়ের তুলনায় দেশীয় পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৭১৫ দশমিক ৫০ টন এবং রপ্তানি আয় বেড়েছে ২০৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

জানা যায়, এই বন্দর দিয়ে সহজে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা যায়। পাশাপাশি দেশের অন্যসব বন্দরের তুলনায় কম সময়ে পৌঁছানো যায় ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত কলকাতায়। তবে এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়ালে পণ্য আমদানি-রপ্তানি আরো বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২২) এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশী এক লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যার রপ্তানি মূল্য এক হাজার ৬৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

অপরদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত পণ্য রপ্তানি হয় এক লাখ ৪৮ হাজার ৪০৮ টন। যার রপ্তানি মূল্য এক হাজার ৪৭৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা জানান, করোনা-পরবর্তী সময়ে ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ায় রপ্তানি বেড়েছে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে গার্মেন্টস সামগ্রী, রাইস ব্র্যান অয়েল, নারকেলের শলা, পাটের সুতা, ক্লিনিক্যাল ক্লথ, তাঁতি শাড়ি ও প্রাণ গ্রুপের বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী। তবে এলসি জটিলতায় কমেছে আমদানি।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজি দিলওয়ার নওশাদ রাজু বলেন, ‘অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভোমরা বন্দরে রপ্তানি আয় বেড়েছে। ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে ক্রমান্বয়ে রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে।’

এদিকে রপ্তানি বাড়ায় গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে বলে জানান, ভোমরা স্থলবন্দরের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার ঘোষ।

সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, ‘আমদানি বা রপ্তানি উভয় দিক থেকে ভোমরা স্থলবন্দর খুবই সম্ভাবনাময়। এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়ালে পণ্য আমদানি-রপ্তানি আরো বাড়বে। ভোমরা বন্দরে ভারী পণ্য লোড-আনলোড করার মতো ক্রেন বা অন্য সক্ষমতা নেই। তার পরও রপ্তানি বাড়ছে।

ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান বলেন, ‘করোনার পর ভোমরা বন্দরে রপ্তানি বেড়েছে, এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাছাড়া ভোমরা বন্দরে আমদানি বা রপ্তানি দুটোই সহজ। এখানে পণ্যজট বা যানজটের কোনোটাই হয় না।’

এআরএস

Link copied!