ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬

কেন খামেনির দাফনে এত বিলম্ব? সামনে এলো কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

কেন খামেনির দাফনে এত বিলম্ব? সামনে এলো কারণ

সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। 

মৃত্যুর দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর শুক্রবার থেকে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে তাঁর দাফন পূর্ববর্তী বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যে খামেনির মরদেহ রাজধানী তেহরানে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দাফন প্রক্রিয়ায় বিশ্বনেতৃবৃন্দ ও বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে। ইরানি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের জাতীয় পতাকা জড়ানো খামেনির কফিনটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ইসলামী সংস্কৃতিতে মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন করার নিয়ম থাকলেও খামেনির ক্ষেত্রে চার মাসের দীর্ঘ বিলম্ব অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। মূলত দুটি প্রধান কারণে এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়েছে:

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি: ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাতের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রাথমিকভাবে দাফন স্থগিত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সুযোগে এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

মরদেহ সংরক্ষণ পদ্ধতি: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দাফন বিলম্বিত হলেও ইসলামিক শরিয়াহ বিধান মেনেই খামেনির মরদেহ এতদিন সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডক্টর মোহাম্মদ ওমর জানান, ইসলাম ধর্মে রাসায়নিকের সাহায্যে ‘এমবামিং’ করা নিষিদ্ধ হওয়ায় খামেনির মরদেহ আধুনিক হিমায়িত শীতল সংরক্ষণাগারে (কোল্ড স্টোরেজ) রাখা হয়েছিল। শিয়া ধর্মীয় আইনে বিশেষ ও জরুরি পরিস্থিতিতে শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা। এছাড়া চীন, আফগানিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেবেন।

৮৬ বছর বয়সে তেহরানের নিজ বাসভবনে নিহত হওয়া এই প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরুর মরদেহ তিন দিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। এরপর মরদেহটি ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। সবশেষে, আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

দীর্ঘ চার মাস পর আয়োজিত এই জানাজাকে নিজেদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখাতে চাইছে ইরানের শাসকগোষ্ঠী। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের প্রকাশ্য আনুগত্য এবং বিপ্লবী চেতনা অটুট থাকার ‘গণরায়’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশবাসীকে দলমত নির্বিশেষে এই জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনগণের এই বিশাল উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ইরানের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।

জেএইচআর

Link copied!