Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪,

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস

৮ মাসে বাল্যবিয়ে ২৩০১, ধর্ষণের শিকার ৫৭৪ শিশু

মো. নাঈমুল হক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ০৫:১৫ পিএম


৮ মাসে বাল্যবিয়ে ২৩০১, ধর্ষণের শিকার ৫৭৪ শিশু

কন্যাশিশু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম জানিয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই আট মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৭৪ কন্যাশিশু। 

এ সময়ে ২৮ জেলায় দুই হাজার ৩০১ জন কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়। এছাড়াও অপহরণ ও পাচার হয়েছে ১৩৬ জন। হত্যার শিকার হয়েছে ১৮৬ শিশু যার মধ্যে ৫ জন ছেলে শিশু । 

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে জাতীয় কন্যা শিশু এ্যাডভোকেসি ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, যৌতুকের কারনে ১৩ জন নির্যাতিতদের মধ্যে ৫ জন যৌতুক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় হত্যার শিকার হয়েছে। 

যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার ৭৬ জন কন্যাশিশুর মধ্যে একজন বিশেষ শিশুও ছিল। অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ৩ জন, অপহরণ ও পাচার হয়েছে ১৩৬ জন।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এ ধারা ২০(৩)-এ বলা হয়েছে, বিচারের জন্য ধর্ষণ মামলা প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনালকে কাজ শেষ করতে হবে। তবে, আইনে থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংগঠনের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আর এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে যাওয়ার এ সময়টিতে এসেও কন্যাশিশুর জন্মকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয় না। 

সামাজিকভাবে ছেলেসন্তান জন্ম দেয়াকে গৌরবের বিষয় ভাবা হয়, যা আদতে সকল কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণই নয়, এটি কন্যাশিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণও বটে।

তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংস আচরণ শুরু হয় একেবারে জন্মলগ্ন থেকে। কিছু ক্ষেত্রে ভ্রুণ-অবস্থা থেকেই। 

কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও বঞ্চনা প্রতিরোধে কর্মকৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কন্যাশিশুদের সার্বিক চিত্র জানা ভীষণ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে, গণমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা আজ কন্যাশিশুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্য তুলে ধরবো। 

আশা করছি, আপনাদের নিরপেক্ষ ও সচেতন লেখনীর মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষসহ নীতি-নির্ধারকগণের কাছে পৌঁছাবে এবং তারা গুরুত্ব, প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন।

অনুষ্ঠানে কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে কন্যাশিশু যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন প্রতিরোধে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-

১. শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার সকল ঘটনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

২. ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন‍‍` নামে একটি আইন জরুরিভিত্তিতে প্রণয়ন করতে হবে।

৩. ঘটনার শিকার কন্যাশিশু ও নারীর পরিবর্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে ও আইনের আওতায় আনতে হবে। এ সম্পর্কিত প্রচলিত আইনের বিধান সংশোধন করতে হবে।

৪. উচ্চপর্যায়ের আইসিটি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সব ধরনের পর্নোগ্রাফিক সাইট বন্ধসহ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

৫. কন্যাশিশু নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

৬. শিশু সুরক্ষায় শিশুদের জন্য একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠন করতে হবে।

৭. বাল্যবিবাহ বন্ধের লক্ষ্যে সামাজিক সুরক্ষার বাজেট বৃদ্ধি করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কন্যাশিশু ও তাদের অভিভাবকদেরকে এর আওতায় আনতে হবে।

বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে।

৮. সাইবার সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, জাতীয় বাজেটে সাইবার সচেতনতায় গুরুত্ব দেওয়া, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিএসআরে সাইবার সচেতনতা বাধ্যতামূলক করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাইবার পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

৯. নির্যাতন বন্ধে বিদ্যমান আইনসমূহের সঠিক ও কঠোর প্রয়োগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

১০. নারী-পুরুষ, সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া এবং পরিবার সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে;

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চাইল্ড রাইটস এন্ড প্রোটেকশন এডুকোর স্পেশালিস্ট মো. শহীদুল ইসলাম, গুডনেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইনুদ্দিন মাইনুল, হেলেন মনিষা সরকার প্রমুখ।

টিএইচ
 

Link copied!