ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদল সম্পন্ন হয়েছে। নবগঠিত বিন্যাসে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে একক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। 

এর আগে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সমন্বিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক বিশেষায়নের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তিনটি বিশাল মন্ত্রণালয়ের ভার থেকে মুক্ত হয়ে এখন তিনি শুধুমাত্র আমিষের স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং মৎস্য রপ্তানির প্রসারে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন।

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হলেও কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, এই তিনটি খাতের কর্মপরিধি বিশাল। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যখন এই তিনটির দায়িত্বে ছিলেন, তখন তাঁকে নীতিনির্ধারণী অনেক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। 

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। বিশেষ করে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কোনো বিকল্প নেই। একজন অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে টুকুর ওপর এই একক দায়িত্ব অর্পণ করার অর্থ হলো, এই খাতকে আরও বেশি বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী করে তোলা।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হবে সাধারণ মানুষের জন্য সস্তায় মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম নিশ্চিত করা। 

তিনি বলেন, আমাদের দেশ এখন মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য এখন আন্তর্জাতিক বাজার। আমরা চাই বাংলাদেশের ইলিশ এবং হিমায়িত চিংড়ি বিশ্বের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দিতে। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিদের ভাগ্য বদলাতে আমরা কাজ করব।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন পোল্ট্রি ফিড এবং মাছের খাদ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় খামারিরা চাপের মুখে রয়েছেন। তাঁর সামনে প্রধান কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে খাদ্যের উচ্চমূল্য অন্যতম, যা মোকাবিলায় দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে সাশ্রয়ী মূল্যে ফিড তৈরির কারখানা স্থাপনে প্রণোদনা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। 

এ ছাড়া ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির বিকাশে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য আধুনিক জাহাজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মড়ক থেকে খামারিদের রক্ষা করতে বাধ্যতামূলক প্রাণিসম্পদ বীমা ব্যবস্থা চালু এবং উন্নত জাতের গরু ও মুরগির প্রজনন বৃদ্ধি করে দুধ ও মাংসের উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানোর মাধ্যমে জাত উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর অধীনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম বড় কাজ হবে নীল অর্থনীতির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় যে মৎস্য সম্পদ রয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি আহরণ করা সম্ভব হয়নি। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টুকু যদি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার আধুনিক নৌযান এবং জেলেদের প্রশিক্ষণে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেন, তবে বাংলাদেশ মৎস্য রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে চলে আসতে পারবে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের নিরাপদ শুঁটকি ও কাঁকড়া রপ্তানির যে বাধাগুলো রয়েছে, তা দূর করতে তিনি জোরালো কূটনৈতিক ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হলো ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্মিং। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইতিপূর্বেও কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন উদ্যোক্তাবান্ধব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। 

এখন এককভাবে এই মন্ত্রণালয়ে থাকায় তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরাসরি খামারিদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। বিশেষ করে কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।

বাজারে যখনই ডিম বা ব্রয়লার মুরগির দাম বৃদ্ধি পায়, সাধারণ মানুষের দৃষ্টি থাকে এই মন্ত্রণালয়ের দিকে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো, সিন্ডিকেট নির্মূল করে বাজার স্থিতিশীল রাখা। প্রান্তিক জেলেরা চাচ্ছেন ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে সরকারি সহায়তা যেন সরাসরি প্রকৃত জেলেদের হাতে পৌঁছায়। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের খুঁটিনাটি বুঝতে সাহায্য করবে। 

তিনটি মন্ত্রণালয়ের বিশাল চাপ থেকে মুক্ত হয়ে এখন তিনি এই সেক্টরকে একটি লাভজনক শিল্পে রূপান্তর করতে পারবেন বলে সবার বিশ্বাস। তাঁর নেতৃত্বে দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ২০২৬ সালে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মোট দেশজ উৎপাদনের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে, এটিই এখন সময়ের দাবি।

জেএইচআর

Link copied!