ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

২ মাসের মধ্যেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, অগ্রাধিকার পাবেন বিএমইটি কার্ডধারীরা

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

২ মাসের মধ্যেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, অগ্রাধিকার পাবেন বিএমইটি কার্ডধারীরা

বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পর এবার প্রবাসীদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যেই বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হতে পারে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রবাসীদের জন্য আধুনিক ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি আর্থিক ও সরকারি বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বিএমইটি কার্ড চালু রয়েছে। বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য নিবন্ধিতদের এই কার্ড দেওয়া হয় এবং তাদের তথ্য সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। বিপদ বা দুর্ঘটনার সময় এসব তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়। তবে নতুন প্রবাসী কার্ডে বিএমইটি কার্ডের বিদ্যমান সুবিধার পাশাপাশি আরও কিছু অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কার্ডে ব্যাংকিং সেবা ও ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থাও থাকবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, এই কার্ডে একটি কিউআর কোড থাকবে, যা স্ক্যান করলে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীর তথ্য দেখা যাবে। প্রয়োজনে এটি মোবাইলের মাধ্যমেও ব্যবহার করা যাবে। এমনকি ভবিষ্যতে এটি পাসপোর্টের বিকল্প পরিচয় হিসেবেও কাজে লাগতে পারে বলে ভাবা হচ্ছে।

সরকার বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে সরকারের হিসাবে বিদেশে অন্তত দেড় কোটি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রবাসী কার্ডে ব্যাংকিং সুবিধা যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে ডুয়েল কারেন্সি সিস্টেমে লেনদেন করা যাবে। অর্থাৎ, প্রবাসীরা বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি বাংলাদেশি টাকাতেও খরচ করতে পারবেন। এছাড়া অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা থাকায় বিদেশে বসেই পরিবারকে কেনাকাটা করে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। সরকারের দাবি, এতে রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।

এর পাশাপাশি বর্তমান বিএমইটি বীমা, আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ বিদ্যমান সুবিধাগুলোও বহাল থাকবে। বিমানবন্দরে হয়রানি কমানো এবং প্রবাসীদের সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করতেও এই কার্ড ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছে। যাদের কাছে প্রবাসী কার্ড থাকবে, তারা সেখানে প্লট বা আবাসন কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন।

প্রাথমিকভাবে যেসব প্রবাসীর বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদেরকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য নতুন করে নিবন্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। তবে যারা পড়াশোনা বা অন্য কারণে বিদেশে গিয়ে পরে চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন এবং বিএমইটি কার্ড নেই, তাদের কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নিবন্ধনকারীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে কার্ড নিতে হতে পারে। অন্যদিকে, যাদের আগে থেকেই বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ফি মওকুফের চিন্তাও রয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগের বিএমইটি কার্ড প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারেনি। তাই নতুন প্রবাসী কার্ড বাস্তব অর্থে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নতুন কার্ড চালু করলেই হবে না, বরং সেটির মাধ্যমে প্রবাসীরা যেন বাস্তব সুবিধা পান এবং হয়রানি কমে সেটি নিশ্চিত করাই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

জেএইচআর

Link copied!