আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আবারও জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে চাকরিজীবীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন। বর্তমান বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির কারণে নতুন বেতন কাঠামো সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থসংস্থানই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এই খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেটে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেবল নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্যই প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে, যা থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের সুবিধাও দেওয়া হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের ব্যয় যে হারে বাড়ছে, রাজস্ব আদায় সেভাবে বাড়ছে না। এমন পরিস্থিতিতে একযোগে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে। দেশীয় ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে অর্থনীতিতে তারল্য সংকটও দেখা দিতে পারে।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার এক ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকার ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথম ধাপে কেবল মূল বেতন (বেসিক) বাড়ানো হতে পারে এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্য ভাতা যুক্ত করা হবে।
নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, এনবিআর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি জানায়, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সতর্ক থাকতে হবে।
আইএমএফের মতে, কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আয় না হওয়া এবং বাজেট ঘাটতি থাকায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেবে। বাজারে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বেকায়দায় ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখাও সমানভাবে জরুরি। তাই ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।
সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এম জি