ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

নাটোরে ৫ হাজার টাকায় আইসিটি সনদ বিক্রির অভিযোগ

আব্দুল মজিদ, নাটোর

আব্দুল মজিদ, নাটোর

জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

নাটোরে ৫ হাজার টাকায় আইসিটি সনদ বিক্রির অভিযোগ

নাটোরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কথিত জাল আইসিটি (আইটি) প্রশিক্ষণ সনদ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নে অংশগ্রহণ ছাড়াই ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সনদ দেওয়া হচ্ছে, যা চাকরির আবেদনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগকারী বাগাতিপাড়া উপজেলার চকগোয়াশ গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তাঁর ছেলের গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রশিক্ষণের সনদের জন্য নাটোর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অফিসের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. রিপন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

প্রথমে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৫ হাজার টাকায় সনদ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। শহিদুল ইসলামের দাবি, রিপনের চাহিদা অনুযায়ী তিনি বকশিশসহ মোট ৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন। পরে দেওয়া সনদটি যাচাই করে সেটি জাল বলে জানতে পারেন।

শহিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জাল সনদের বিষয়টি ফোনে জানালে রিপন তাঁকে মারধরের হুমকি দেন। তিনি বলেন, “আমি এই দুর্নীতির সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. রিপন আলী সনদ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি সার্টিফিকেট দিয়েছি। শহিদুল আমাকে অনেক অনুরোধ করেছিলেন, তাই দিয়েছি। তারা টাকাও দিয়েছে।” তবে সনদটি জাল হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার বা এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

সরেজমিনে অন-রেকর্ড সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় তিনি অভিযোগকারীকে ফোন করেন বলেও প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই ফোনে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।

প্রকল্পভিত্তিক কর্মচারী মাহামুদ বলেন, “রিপন আমাদের আইসিটি অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা। আমি যেহেতু তার অধীনস্থ, তাই তার নির্দেশনা অনুযায়ী সার্টিফিকেট দিয়েছিলাম। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানতাম না।”

স্থানীয় প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত প্রশিক্ষণ, উপস্থিতি ও মূল্যায়নের নিয়ম অনুসরণ না করেই কিছু ব্যক্তির হাতে সনদ পৌঁছে যাচ্ছে। এতে প্রকৃত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মূল্যায়ন ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, “আমরা ছয় মাস কষ্ট করে প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করছি। অথচ টাকার বিনিময়ে অনেকেই সনদ পাচ্ছেন বলে শুনছি। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে যারা এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

নাটোর জেলার সুজনের সভাপতি খগেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি জাল সনদ তৈরি বা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তা ফৌজদারি আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অভিযোগের বিষয়ে নাটোর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার মো. সেলিম হোসেন বলেন, “জাল সনদসংক্রান্ত কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, অভিযোগের সত্যতা ও অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সনদের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এএন

Link copied!