ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্য, আইনে ক্ষমতার বৃদ্ধাঙ্গুলি!

মুজাহিদুল ইসলাম মাহির (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)

মুজাহিদুল ইসলাম মাহির (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্য, আইনে ক্ষমতার বৃদ্ধাঙ্গুলি!

জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতিফলন। অথচ বাংলাদেশে নিয়মিত ঋণখেলাপিরা বিভিন্ন আইনের ফাঁকফোকর ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন-যা এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করে আসছে। 

যাঁরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা ফেরত না দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশের আইনপ্রণেতা বনে যান, তাঁরা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা তো ভঙ্গ করেনই, পাশাপাশি রাজনৈতিক নৈতিকতাকেও চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ঋণখেলাপিদের দৌরাত্ম্য কেবল ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) সৃষ্টি করে না, বরং দেশের পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেই হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

আইন ও নৈতিকতার সংকট কোনো ব্যক্তি বা সেই ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যখন কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ নির্ধারিত সময় ও শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তখন তাঁকে ঋণখেলাপি বলা হয়। একজন ঋণখেলাপি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আমানত রক্ষা করতে ব্যর্থ বলে পরিগণিত হন। 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১২(১) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বলে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে। মূলত জনগণের আমানত রক্ষা করা ও দেশের সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব। ফলে যিনি ব্যাংকের টাকা সময়মতো ফেরত দেননি, তাঁর ওপর রাষ্ট্রীয় সম্পদের দায়িত্ব দেওয়া নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংকট তৈরি করে।

ইসির বিতর্কিত ভূমিকা ও আসলাম চৌধুরীর উদাহরণ নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে ব্যাংক থেকে ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে অনেক সময় উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নেন। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবারের নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের ব্যাপারে ইসির শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নিজেই মন্তব্য করেছেন, আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী মোটা অঙ্কের ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করে ইসিতে আপিল করেছিল দুটি ব্যাংক। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিয়ে অনুরোধ করে বলেন, মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন।

তালিকায় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা শুধু বিএনপি নয়, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, এনসিপি, এনপিপিসহ স্বতন্ত্র কয়েকজন প্রার্থীও ঋণখেলাপিদের এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছিল এবারের নির্বাচনে কোনো খেলাপি অংশ নিতে পারবেন না। এর আগে ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে সিআইবি তথ্য আপডেটের ক্ষমতা বাণিজ্যিক ব্যাংকের হাতে ছেড়ে দিয়ে কৌশলে খেলাপিদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সিআইবি কঠোর অবস্থানে থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় অর্ধশত ঋণখেলাপি শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থিতা বৈধ করতে সক্ষম হয়েছেন।

অশনীসংকেত দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে ব্যাংক ব্যবস্থাকে ধ্বংস ও অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করার সাথে ঋণখেলাপিরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই প্রভাবশালীরাই যখন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সংসদে যাওয়ার পথ সুগম করে ফেলেন, তা দেশের রাজনৈতিক নৈতিকতা ও আইনের ভঙ্গুরতাকেই প্রকাশ করে। 

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতার বিকল্প নেই। কিন্তু ঋণখেলাপিদের ব্যাপারে ইসির ভূমিকা প্রশ্নাতীত নয়। আইনের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক ক্ষমতার এই অপব্যবহার আগামীর রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য এক অশনীসংকেত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

*মতামত লেখকের নিজস্ব

জেএইচআর

Link copied!