Amar Sangbad
ঢাকা বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

মে ১৫, ২০২২, ১২:২৫ এএম


আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা

আজ বৌদ্ধ পূর্ণিমা। দেশের বৌদ্ধ সমপ্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করছেন। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণ— এই স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পালন করেন বৌদ্ধ ভক্তরা।

গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভ এই ত্রিস্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের  কাছে এটি বৌদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত। 

বৌদ্ধ ধর্মমতে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেয়া হয় ‘বৌদ্ধ পূর্ণিমা’। 

বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে জানা যায়, পূর্বজন্মে বোধিসত্ত সকল  পারমি পূরণ করে সন্তোষকুমার নামে যখন স্বর্গে অবস্থান করছিলেন, তখন দেবগণ তাকে জগতের মুক্তি এবং দেবতা ও মানুষের নির্বাণ পথের সন্ধান দানের জন্য মনুষ্যকুলে জন্ম নিতে অনুরোধ করেন। 

দেবতাদের অনুরোধে বোধিসত্ত সর্বদিক বিবেচনাপূর্বক এক আষাঢ়ি পূর্ণিমায় স্বপ্নযোগে মাতৃকুক্ষিতে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমায় জন্মলাভ করেন। তার জন্ম হয়েছিল লুম্বিনী কাননের শালবৃক্ষ ছায়ায় উন্মুক্ত আকাশতলে। তার  নিকট জাতি, শ্রেণি ও গোত্রের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। 

তিনি মানুষকে মানুষ এবং প্রাণীকে প্রাণিরূপেই জানতেন এবং এর প্রাণসত্তার মধ্যেই যে কষ্টবোধ আচে তা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতেন। তাই তিনি বলেছিলেন, সবেব সত্তা ভবন্তু সুখীতত্তা জগতের সব প্রাণী সুখী হোক। সারা দেশে রাষ্ট্রীয় ছুটির এদিনের শুরুতে শান্তিশোভাযাত্রা ও বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরগুলোতে  দিনব্যাপী প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করে বুদ্ধের আদর্শ অনুসারী বৌদ্ধ সমপ্রদায়। 

এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্বলন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাত ফেরি, সমবেত প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও বৌদ্ধ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। 

এছাড়াও মানব জাতির সর্বাঙ্গীন শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে বৌদ্ধ সমপ্রদায়সহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।