Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪,

ইতেকাফকারীর করনীয় ও বর্জনীয় কাজ

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৪, ০৩:৫৬ পিএম


ইতেকাফকারীর করনীয় ও বর্জনীয় কাজ

পবিত্র রমজানে আল্লাহর নৈকট্যলাভের একটি বড় মাধ্যম ইতেকাফ। রাসুলুল্লাহ (স.) মদিনায় হিজরত করার পর মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতেকাফ ছাড়েননি। (বুখারি: ২০২৬)

ইতিকাফকারীর সবচেয়ে বড় দুটি ফায়দা হলো—১. নেক আমল না করেও অবিরত সওয়াব পাওয়া। তাই ইতেকাফকারীরা শবে কদর লাভ করে থাকেন। ২. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। কারণ মসজিদে সাধারণত গুনাহ করা হয় না। 

এছাড়াও জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভের বড় মাধ্যম এই ইতেকাফ। রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতেকাফ করবে, আল্লাহ ওই ব্যক্তি ও জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে  দেবেন। যা দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে পূর্ব-পশ্চিম দিগন্ত থেকেও বেশি দূরত্বসম্পন্ন হবে।’ (শুআবুল ঈমান: ৩৬৭৯)

রাসুলুল্লাহ (স.) আরও ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করবে তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরা পালন করার  সাওয়াব দান করা হবে।’ (শুআবুল ঈমান: ৩৬৮০)

ইতেকাফকারীর করণীয় ও বর্জনীয়

ইতেকাফকারী ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতগুলো সঠিকভাবে আদায় করার চেষ্টা করবেন এবং বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ ও জিকির করার চেষ্টা করবেন। দরুদ ও ইস্তেগফার পাঠ করবেন। রাতে যতক্ষণ পর্যন্ত আগ্রহ থাকবে, ততক্ষণ এসব আমলে ব্যস্ত থাকবেন।

শুয়ে যেতে ইচ্ছে করলে সুন্নত মোতাবেক কেবলামুখী হয়ে শুয়ে যাবেন। দোয়া-মুনাজাতসহ জীবনের সব গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং নিজের যাবতীয় নেক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, উম্মতের হেদায়েতের ও সব ধরনের ফিতনা থেকে হেফাজতের জন্য দোয়া করবেন। বিজোড় রাতগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমল করার চেষ্টা করবেন।

দিনের শুরুতে হাদিসে বর্ণিত সকাল বেলার দোয়া পাঠ করবেন। সন্ধ্যাকালীন আমলগুলো যথাযথ আদায় করার চেষ্টা করবেন। কাজে-কর্মে, কথা-বার্তায়  ও ওঠা-বসায় অন্যের কষ্টের কারণ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মসজিদের আদব, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।

কিছু কাজ আছে, যা করা সর্বাবস্থায় হারাম তবে ইতিকাফ অবস্থায় করা আরো মারাত্মক। যেমন—পরনিন্দা, চোগলখুরী, মিথ্যা বলা, ঝগড়া করা, কাউকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া, অন্যের দোষ তালাশ করা, কাউকে অপমানিত করা, অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি। এসব কাজ পরিপূর্ণভাবে পরিহার করা জরুরি।

কোনো প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ডেকে সাধারণ কথাবার্তা বলা যাবে না। এটি মাকরুহ। আড্ডা জমানো নাজায়েজ। ইতেকাফ অবস্থায় অনর্থক বই পুস্তক পড়া পরিহারযোগ্য। মোবাইলে ইন্টারনেটে গুনাহের উপকরণগুলো ছাড়াও অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক উপকরণ থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকবেন।

ইতেকাফ ইবাদতের জন্য, ইবাদত বিনষ্টের জন্য নয়। মসজিদের ভেতরে বিনিময় নিয়ে কোনো কাজ করা জায়েজ নয়; দ্বীনি কাজ হোক বা দুনিয়ার কাজ হোক। আল্লাহর নৈকট্য ও কদরের রাতের ফজিলত ও রহমত লাভের বাসনা অন্তরে লালন করবেন। আল্লাহ তাআলা ইতেকাফকারীদের উল্লেখিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকার তাওফিক দান করুন। ইতেকাফের সকল ফজিলত ও মর্যাদান দান করুন। আমিন।

এইচআর

Link copied!