Amar Sangbad
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪,

আজ মধ্যরাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

শিগগিরই সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত

রফিকুল ইসলাম

অক্টোবর ৩, ২০২২, ০১:১১ এএম


শিগগিরই সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত

শিগগিরই চূড়ান্ত হবে ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবমহিলা লীগ ও তাঁতী লীগের সম্মেলনের তারিখ। একই সাথে ঘোষণা হতে পারে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখও। রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ মধ্য রাতে দেশে ফেরার পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংগঠনগুলোর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সাথে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেবেন তিনি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি আমার সংবাদকে নিশ্চিত করেছে।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৮ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ সোমবার মধ্য রাতে দেশে ফিরবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষ কৃত্য এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন ও নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেছিলেন তিনি। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশে ফিরলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে মনে করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

তাদের দাবি— দেশে ফেরার পরপরই দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। গুঞ্জন রয়েছে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ এবং আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলনের ঘোষণা আসতে পারে ওই বৈঠক থেকে।

এছাড়া সম্মেলনের ঘোষণা আসতে পারে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের। একই সাথে নির্ধারণ করা হবে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ। মূলত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মূল দল ও দলের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন চলতি বছরেই শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার টার্গেট সংসদ নির্বাচনের আগে দল ও সহযোগী সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন নির্ধারিত সময়ই অনুষ্ঠিত হবে। যথাসময়েই সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে দলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেত্রীর নির্দেশনার পর কেন্দ্রীয় সম্মেলনের অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা সম্মেলন করছে তারা। সম্মেলনকে সামনে রেখে ভিতরে ভিতরে গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র সংশোধনের কাজও করছে আওয়ামী লীগ। তবে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এজন্য মেয়াদোত্তীর্ণ সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এমন নির্দেশনার পর তারা সম্ভাব্য তারিখও জমা দিয়েছেন। তবে এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে এবার রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশের ফেরার পরই দল ও সহযোগী সংগঠনের তারিখ ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তাদের দুজনের বিভক্তি-বিভাজন নিয়ে ক্ষুব্ধ দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা। একই সাথে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ তারা। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকায় ইতোমধ্যে দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ণ কবিরকে কারণ দর্শানের নোটিস দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দলটি।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বলছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যক্রমে যুক্ত থাকায় অব্যাহতি পেতে পারেন হুমায়ণ কবির। আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশে ফিরলে তাকে বহিষ্কার করার সুপারিশ করা হতে পারে। একই সাথে মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন দিতে বলা হতে পারে। তবে নগরের সম্মেলন হওয়া না হওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি চাইলে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই মহানগর দুটি ইউনিটের সম্মেলন শেষ হবে।

চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে  শুরু হবে ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও তাঁতী লীগের সম্মেলন। একই সাথে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলনের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। মহিলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৭ সালের ৪ মার্চ। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের ৪ মার্চ। একই বছর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় যুব মহিলা লীগের সম্মেলন। তাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের ১১ মার্চ। তেমনি তাঁতী লীগের মেয়াদ হয়েছে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ। ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের মে মাসে।

ওই বছরের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবিসহ নানা অভিযোগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদ হারান দুজন। তাদের স্থলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যকে। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আল নাহিয়ান খান ও লেখক ভট্টাচার্যকে ভারমুক্ত করা হয়। জয়-লেখক প্রায় তিন বছর ধরে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষুব্ধ সংগঠনের বড় একটি অংশ। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কার্যক্রমে খুশি নন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও। ফলে ছাত্রলীগের সম্মেলন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে তা ধরে নেয়া যায়।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরবেন এবং কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডাকবেন। সেখানে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি যে সব বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে।

Link copied!