Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪,

চূড়ান্ত ফল প্রকাশ আগামী সপ্তাহে

বেলাল হোসেন

নভেম্বর ২৪, ২০২২, ০১:৫৯ এএম


চূড়ান্ত ফল প্রকাশ আগামী সপ্তাহে

আগামী সপ্তাহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। গত কয়েক দিন ধরেই ফেসবুকসহ যোগাযোগমাধ্যমে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সংবাদ দিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মূলত অনলাইন বদলির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগ হবে। বিগত ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এরপর ২৫ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন শুরু হয়। শেষ হয় ২৪ নভেম্বর। ৩২ হাজার ৫৭৭টি পদের জন্য আবেদন করেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন। প্রতি পদের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ৪০ জন। সহকারী শিক্ষকের মোট ৩২ হাজার ৫৭৭টি শূন্য পদের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫ হাজার ৬৩০ জন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় হাজার ৯৪৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ হাজার ৫৭৭ পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও পরে এই সংখ্যা বাড়ানো হয়। গত ১০ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সভা হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়, অবসরজনিত কারণে বিজ্ঞপ্তির বাইরে আরও ১০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে।

এতে বিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা পাঠদান কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। এ সমস্যা নিরসনে মন্ত্রণালয় আগের বিজ্ঞপ্তির শূন্যপদ ও বিজ্ঞপ্তির পরের শূন্যপদ মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রায় এক লাখ ৫১ হাজার প্রার্থীর ভাইভা নেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে  অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা আমার সংবাদকে বলেন, মন্ত্রণালয়ে গত ২১ নভেম্বর মিটিং হয়েছে। এখানে বলা হয় কয়েকজন শিক্ষকের অনলাইন বদলিতে অভিযোগ পড়েছিল, এগুলো আগামী দুই-তিন কার্যদিবসের মধ্যে সমাধান করা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে ভাইভা দেয়া চূড়ান্ত নিয়োগ প্রাপ্ত প্রার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এর বেশি যেটা বলা হয়েছিল তা আপাতত হচ্ছে না বলে জানান এ কর্মকর্তা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পদ বাড়ানোর ফলে কেউ যদি বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই পদ বাড়ানো হচ্ছে না।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্য থাকা পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সারা দেশের চাকরিপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের দাবিও জানান তারা।

গতকাল বুধবার সকালে ডিপিই মিরপুর-২-এর সামনে পদ সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিতে গণআন্দোলনে অংশ নেন কয়েকশ চাকরিপ্রার্থী। একই দাবিতে ঢাকার বাইরে রাজশাহী, রংপুর, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে মিছিল ও মানববন্ধন করেন।

চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শূন্যপদ পূরণ, পদ ৫৮ হাজার পর্যন্ত বৃদ্ধি ও ভাইভায় অংশ নেয়া প্রতি তিনজনের একজনকে নিয়োগ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

তারা বলছেন, সহকারী শিক্ষক পদে ৪৫ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগের কথা ইতোপূর্বে বলা হলেও পদ সংখ্যা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ৩২ হাজার ৫৭৭টিই রাখা হচ্ছে বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এর পরই এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হতে শুরু করেন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষক নিয়োগের ভাইভায় অংশ নেয়া প্রার্থীরা। সারা দেশের সব শূন্যপদ পূরণ করলে নিয়োগের সুযোগ পাবেন প্রায় ৫৮ হাজার প্রার্থী। তাই প্রার্থীরা এসব শূন্যপদ পূরণসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামেন।  

Link copied!