community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ২১ জুন, ২০২৪,

তৃণমূলে নরম কর্মসূচিও গরম

আবদুর রহিম

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৩, ০১:২৪ এএম


তৃণমূলে নরম কর্মসূচিও গরম

দেশে ৬৬টি সাংগঠনিক জেলায় গতকাল একযোগে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এ সময় চার জেলায় সংঘাত হয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশি বাধায় কর্মসূচি পণ্ড হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও। আটক হয়েছেন বিএনপির বহু নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি কর্মসূচির নামে সম্পূর্ণ সন্ত্রাসের পথে হাঁটছে। তারা অতীতের রূপ দেখাচ্ছে। আর বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগ মুখে শান্তির কথা বললেও মাঠে তার উল্টোটি করছে। পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে বাধা দিচ্ছে। গতকাল ঝালকাঠিতে পদযাত্রায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পটুয়াখালীতেও পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিপেটায় বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নেত্রকোনায় পদযাত্রায় অংশ নিতে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। নাটোরে কর্মসূচির আগে মোটরসাইকেল বহর থেকে বিএনপি কার্যালয়ের পাশে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বাগেরহাটে পদযাত্রায় বাধা দিয়েছে পুলিশ, এ সময় অন্তত ৪০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আমার সংবাদকে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় আছে তাদের হাতে কেউ নিরাপদ নয়। তারা মুখে যা বলে বাস্তবে তার কিছুই করে না। বিএনপির জেলায় জেলায় শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় বাধা দেয়ার ঘটনায় সেটি আবারো প্রমাণিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের হাতে কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিরাপদ নয়। তারা বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন হামলা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই উচিত নয়।’ 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এ প্রসঙ্গে আমার সংবাদকে বলেছেন, ‘বিএনপি সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসের পথে হাঁটছে। তারা অতীতে যেভাবে রাজপথে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে, আবারও সেটি করে যাচ্ছে। তারা মুখে শান্তির কথা যতই বলুক আসলে তারা সন্ত্রাস ছাড়া অন্য কোনো পথে হাঁটতে পারে না। তারা কর্মসূচি নামে অতীতের পুরনো রূপ দেখাচ্ছে।’ বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেছেন, ‘এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসে এখন বলছেন, ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসার ইচ্ছা তাদের নেই। অথচ ২০১৮ সালে শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে একটি নজির স্থাপন হয়েছে দিনের ভোট রাতে নেয়ার। রাতের অন্ধকারে কীভাবে ভোট নিতে হয়, তা এ দেশের ১৬ কোটি মানুষসহ সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ সরকার।’

বিদ্যুৎ-গ্যাস, চাল-ডাল, তেল-চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো, দমন-নিপীড়ন বন্ধ করা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনসহ ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা’ দাবিতে গতকাল জেলায় জেলায় এ পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

নীলফামারীতে আ.লীগ-বিএনপি  পালটাপালটি ধাওয়া : নীলফামারীতে সংঘর্ষ ও পালটাপালটি ধাওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির পদযাত্রা ও আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ হয়েছে। এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় পৌর সুপারমার্কেটের সামনে শান্তি সমাবেশ শুরু করে জেলা আ.লীগ। একই সময়ে পৌর সুপারমার্কেটে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে পদযাত্রার জন্য সমবেত হয় জেলা বিএনপির একাংশ। দুই সভাস্থলের দূরত্ব ছিল মাত্র ৫০ গজের মতো। এ সময় জেলা আ.লীগের সভাস্থল থেকে কয়েকজন নেতাকর্মী বিএনপির সভাস্থলে হামলা চালিয়ে তাদের টাঙানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে চেয়ার ভাঙচুর করে।

 এতে উভয় পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করি। একই সময়ে আমাদের দলীয় কার্যালয়ের অদূরে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের ডাক দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করে। বিনা উসকানিতে তারা আমাদের সভাস্থলে হামলা চালিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৌর সুপারমার্কেটের সামনে শান্তি সমাবেশের জন্য মঞ্চ তৈরি করি। পরে তারাও (বিএনপি) আমাদের সভা মঞ্চের অদূরে কর্মসূচি ঘোষণা করে। বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা রকম উসকানিমূলক ও অশ্লীল বক্তব্য দিতে থাকেন। আমাদের নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ করলে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

নেত্রকোনায় হামলা, ভাঙচুর : নেত্রকোনায় বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এ সময় ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নিয়ে অগ্নিসংযোগ ও মোটরসাইকেল মাইক্রোবাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পদযাত্রা কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের এই হামলায় ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ সময় পুলিশ বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপির নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে মারামারি করে কেউ আহত হতে পারেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামছুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর ওপর হামলা করেননি।’ জেলা বিএপির আহ্বায়ক মো. আনোয়রুল হক বলেন, ‘হামলা করে সরকার যতই চেষ্টা করুক, এভাবে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামকে প্রতিহত করতে পারবে না। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘শহরের বেশ কয়টি স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝামেলার চেষ্টা করেছিলেন। সেখান থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

বাগেরহাটে পুলিশের বাধা, ৪০ নেতাকর্মী আটক : বাগেরহাটে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলের ৪০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল সকাল পৌনে ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহরের মুনিগঞ্জ, পুরাতন বাজার ও থানার মোড় এলাকা থেকে আটকের ঘটনা ঘটে। বেলা পৌনে ১১টায় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে জেলা বিএনপি। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালামসহ অন্তত ৪০ নেতাকর্মীকে বিনা কারণে আটক করেছে। এ ছাড়া গেল রাত থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দেয় পুলিশ।’

ঝালকাঠিতে লাঠিপেটা : ঝালকাঠিতে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা করলে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি।  সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরের সাধনার মোড় ও বিএনপির দলীয় কার্যালয় আমতলার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন ঝালকাঠি সদর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কামাল, উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ও মো. শফিকুর রহমান। তারা তিন জনই ইটের আঘাতে রক্তাক্ত আহত হন। তাদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. আনিসুর রহমান ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তাওহীদও রয়েছেন। ঝালকাঠি সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তিন পুলিশ কর্মকর্তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

পটুয়াখালীতে ধাওয়া পদযাত্রা ছত্রভঙ্গ : পটুয়াখালীতে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে ধাওয়া দিয়ে নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে শহরের কলেজ রোডে বিএনপির কার্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি পদযাত্রার কর্মসূচির আয়োজন করে। শহরের বনানী এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রথমে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে জেলা বিএনপি। সমাবেশে শেষে পদযাত্রা শুরু হয়ে পৌরসভা মোড়ে যাওয়ার পথে পুলিশ পেছন থেকে ধাওয়া দিয়ে লাঠিপেটা শুরু করে। এতে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশু সরকার বলেন, ধাওয়ার সঙ্গে নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। এ সময় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

 

 

Link copied!