Amar Sangbad
ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ, ২০২৪,

চুয়াডাঙ্গায় জনবান্ধব রাজনীতির আইকন হাশেম রেজা

নুর মোহাম্মদ মিঠু

নভেম্বর ২০, ২০২৩, ১২:১২ এএম


চুয়াডাঙ্গায় জনবান্ধব রাজনীতির আইকন হাশেম রেজা
  • শেখ হাসিনার উন্নয়নবার্তা পৌঁছে দিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে তৈরি করলেন ভোট ব্যাংক  

আত্মত্যাগমূলক নেতৃত্বের সৃষ্টি তখনই ঘটে, যখন একজন নেতা সংগঠন ও অনুসারীদের জন্য এক বা একাধিক পেশাদার বা ব্যক্তিগত সুবিধা হারায়। আর সেই আত্মত্যাগী নেতৃত্বের মূল লক্ষ্যই— অনুসারীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করা। যা প্রতিনিয়তই করে যাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর-দামুড়হুদা উপজেলা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হাশেম রেজা। পক্ষান্তরে বিগত দিনে ক্ষমতার সান্নিধ্যে থাকা রাজনীতিবিদদের আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতিকরণের কারণে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামীপন্থি অনুসারীদের সম্পর্কোন্নয়নে করা হয়েছে নিরুৎসাহিত। যা সেখানকার নেতাকর্মীদের চলমান নীরব ক্ষোভেই প্রমাণিত। 

অন্যদিকে রহস্যময় চলমান রাজনীতির অভিযাত্রায় উত্থান-পতন আর ভাঙাগড়ার পালা বদলেও পরিবর্তনের আশায় মাটি ও মানুষের কাছাকাছি গিয়ে নিজেকে দলের স্বার্থে সবার ঊর্ধ্বে মেলে ধরার সুস্থ প্রতিযোগিতায় নীরবে নিভৃতে অর্জন করেছেন ওই আসনের আপামর জনতার শর্তহীন ভালোবাসা, আস্থা ও বিশ্বাস। 

হাশেম রেজার প্রতি জনগণের নিঃস্বার্থ এই ভালোবাসার প্রতিদান নিহিত রয়েছে একমাত্র দলীয় মূল্যায়নে। যার ব্যত্যয় ঘটলেই চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের হাজার-লাখো ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীর হূদয়ে ঘটবে অদৃশ্য রক্তক্ষরণ। তাই তারা জোড়ালোভাবে চাইছেন নির্লোভ-জনদরদী, বছরের পর বছর বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা জনতার দরজায় পৌঁছে দেয়াসহ রাষ্ট্রবিরোধী চেতনা ও রাজনীতি দমনের পরীক্ষা দিতে দিতেই গণমানুষের নেতারূপে আবির্ভূত হাশেম রেজাই দলীয় প্রতীক নিয়ে ফিরে আসুক তাদের মাঝে। তাদের এই চাওয়ার প্রতিদান দিতেই এবং তাদের উৎসাহেই দলের কাছে মনোনয়ন চাইছেন হাশেম রেজা। চুয়াডাঙ্গা-২ আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায়ও হাশেম রেজাকে মনোনয়ন দিয়ে ওই আসনের আওয়ামীপ্রেমি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখবে দল— এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে হাশেম রেজাকে বিজয়ী করেই দলকে এই আসনটি উপহার দেবেন— এমন দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তারা। 

পরিবার থেকেই আওয়ামী রাজনীতিতে হাতেখড়ি

আওয়ামী রাজনীতিতে সুসময়ের কোকিলখ্যাত অসংখ্য-অগণিত রাজনীতিবিদ রয়েছেন, যাদের আবির্ভাব ঘটে এক-এগারোর পর। এর আগেও যারা সুসময়ের কোকিল হিসেবে অনুপ্রবেশ করেছেন তাদের অনেকেই ত্যাগীদের পেছনে ফেলে আওয়ামী রাজনীতিতে এগিয়ে গেছেন অনেক দূর। হাশেম রেজা এমনই একজন আওয়ামী রাজনীতিক; যার রাজনীতির হাতেখড়ি ঘটেছে পরিবার থেকেই। পারিবারিক সূত্রেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী। ২০০১ সালে শুধু তিনিই নন, তার গোটা পরিবারের ওপরও নেমেছিল বিএনপি-জামায়াতের হামলা ও মিথ্যা মামলার খড়গ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলা-হামলা ছাড়াও ওই সময়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, জমি দখলসহ অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন হাশেম রেজা। 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও বলছেন, তার চাচা হারুণ অর রশিদ ও বড় ভাই মুজিবার রহমান দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও সক্রিয় নেতা। জানতে চাইলে হাশেম রেজা বলেন, নিজেদের ওপর জামায়াত-বিএনপির হামলা-মামলার খড়গ, দলের চরম দুর্দিনেও শুধু আমি কেন, আমার পরিবারও দল (আওয়ামী লীগ) ছেড়ে যায়নি, কখনো যাবেও না। দলীয় নীতি থেকে কখনো বিচ্যুত হয়নি, হবেও না। আমার বাবা মৃত মো. ছাব্দার আলী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে সারাজীবন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। শুধু তাই নয়, হাশেম রেজার শ্বশুর মো. আইয়ুব আলী খানও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালে যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পরীক্ষিত নেতা হিসেবেও মো. আইয়ুব আলী খানের রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা।

ছাত্ররাজনীতি থেকেই পরীক্ষিত সৈনিক

১৯৯৪ সালের তুখোড় ছাত্রনেতা হাশেম রেজা; ধারাবাহিকভাবেই সক্রিয় রয়েছেন আওয়ামী রাজনীতিতে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলার মধ্য দিয়েই আকাশচুম্বী দৃঢ়তার সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলায় নিজের অবস্থান থেকে মোকাবিলা করেছেন এক-এগারোর ষড়যন্ত্রও। ১৯৯৪ সালে দর্শনা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ইয়ার কমিটি) হাশেম রেজা পরবর্তী কমিটিতেও (১৯৯৫) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন একই শাখায়। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বহুমুখী দায়িত্বও অদ্যাবধি সাফল্যের সঙ্গে পালন করে আসছেন তিনি। দল থেকে যখনই যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, মাথা পেতে নিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব পালনে সাফল্য আর দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তার সর্বজনীন নমনীয়তায় দলের হাইকমান্ডেও যেমন গ্রহণযোগত্যা বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে জনপ্রিয়তাও। মাঠে এবং কেন্দ্রে সর্বত্রই সমানতালে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বিচক্ষণ এই আওয়ামী লীগ নেতা। 

দীর্ঘ একযুগেরও অধিক সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার শান্তির বাণী নিয়ে দামুড়হুদা ও জীবননগরের প্রতিটি ঘরে ঘরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, ত্যাগী রাজনীতির মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে শেখ হাসিনার সিপাহশালার একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তিনি। ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত দুঃশাসনের সময় হামলা-মামলায় জর্জরিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন এই হাশেম রেজা। শুধু তাই নয়, এক-এগারো পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে চুয়াডাঙ্গা ও রাজধানী ঢাকায় সক্রিয় ছিলেন সমানতালে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদসহ জরুরি অবস্থাকালীন ভূমিকা ও নির্যাতনের শিকার 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল হাশেম রেজার পরিবার। ৭৫ পরবর্তী সময়ে যেখানে ১৫ আগস্ট জাতীর পিতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা যেত না, সেখানে তার পরিবার জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতিকে নিয়ে প্রথম চুয়াডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। 

২০০৭-২০০৮ সালে দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালীন সময়েও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অন্যতম কার্যনির্বাহী সদস্য মরহুম মির্জা সুলতান রাজার দিক নির্দেশনায় ও পরামর্শে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। নেত্রীর মুক্তির জন্য নিজ অর্থায়নে পোস্টার, লিফলেট ছাপানোসহ স্টাফদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের নিয়েই ‘নো হাসিনা, নো ইলেকশন’ স্লোগান হূদয়ে ধারণ করে জনমত সংগঠনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। দলের স্বার্থ বিবেচনায় এসব কার্যক্রম করতে গিয়েই সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে পুলিশের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন হাশেম রেজা। যা চুয়াডাঙ্গার সর্বস্তরের মানুষসহ বিভিন্ন মহলে প্রায়শই আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

জাতীয় নির্বাচন পরিচালনাসহ বহুমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে সাফল্য 

বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য হাশেম রেজা। এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক (২০১২-২০১৯) হিসেবেও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে দর্শনা সরকারি কলেজ শাখা ও উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমেই রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য মির্জা সুলতান রাজার অন্যতম সহযোগী হিসেবে ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকায় জামায়াত-বিএনপির আক্রোশমূলক রাজনীতির শিকার হন তিনি। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হতে অদ্যাবধি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবেই রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। ৭১ পরবর্তী সময় থেকেই চুয়াডাঙ্গা এলাকায় স্বাধীনতা বিরোধীরা সক্রিয় হয়ে উঠে। তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রজন্মের মাঝে শেখ হাসিনার শান্তি মশাল নিয়ে এ অঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নেও নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। 

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে অদ্যাবধি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-বিএনপির বিরুদ্ধেও তার অবস্থান কঠোর। ২০০৪ সালে সাংগঠনিক কর্মী হিসেবে চুয়াডাঙ্গা যুবলীগের রাজনীতি শুরু করে ২০০৭ সাল থেকে কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন হাশেম রেজা। এছাড়াও তিনি সম্মিলিত তরুণ পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, ২০০১ সালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য, ২০০৪ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হিসেবেও সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সরকারের উন্নয়নের বার্তাবাহক  

১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই কার্যত উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে দেশ। বর্তমান সরকারের করা সব উন্নয়নের বার্তা চুয়াডাঙ্গার গ্রাম থেকে মহল্লা পর্যায়ে জনগণের দ্বারপ্রান্তে তুলে ধরতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। দামুড়হুদা, জীবননগরের পিছিয়ে পড়া তৃণমূল দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতেও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অন্তত শতাধিক গৃহহীন পরিবারকে গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ প্রায় তিন শতাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এখনো নিয়মিত অনুদান দিয়েছেন হাশেম রেজা। 

এ ছাড়া বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা সুলতান রাজার সহযোগিতায় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় দল ক্ষমতায় এলে নিজ চেষ্টায় দামুড়হুদা, জীবননগরের রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণসহ সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের সময় হামলা-মামলায় জর্জরিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তা এবং ঘুরে দাঁড়াতে যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি চাকরি, উদ্যোক্তা তৈরি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও রয়েছে তার অসামান্য অবদান।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে করেছেন কমপ্লেক্স নির্মাণ

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল হাশেম রেজা সর্বদাই কাজ করছেন মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে। পরিবার ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছ থেকেই পেয়েছেন দেশপ্রেমীদের কল্যাণে কাজ করার শিক্ষা। যে কারণে দেশের বীর সেনানিদের কল্যাণে সবসময়ই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাধ্যমতো সবসময় সহযোগিতাও অব্যাহত রেখেছেন তিনি। সেখানকার একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। 

শিক্ষাক্ষেত্রে ‘হাশেম রেজা ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’-এর অসামান্য অবদান

বিগত ১৭ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, স্থানীয় এতিমখানা, স্কুল-কলেজে শিক্ষা উপকরণ (যেমন— কম্পিউটার, বেঞ্চ, টেবিল, খাতা-কলম ইত্যাদি) প্রদানসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ‘হাশেম রেজা ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’-এর মাধ্যমে কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে রেখেছেন বিশেষ অবদান। পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনন্য উচ্চতায় নিয়েছেন কুড়ুলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান। 

শিক্ষানুরাগী হাশেম রেজা চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষা খাতে বিভিন্নভাবে অবদান রেখে সর্বজন শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত করেছেন নিজেকে। সর্বশেষ কুড়ুলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট রথি-মহারথিরা। এর আগে কখনো কোনো অনুষ্ঠানে এমন সাড়া পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। যা কেবল হাশেম রেজার দায়িত্ব গ্রহণের পরই শিক্ষার মানোন্নয়নের কারণে সম্ভব হয়েছে বলে বলছেন স্থানীয়রা।

সর্বমহলেই প্রশংসিত করোনাকালীন উদারতা

২০২০ সালে যখন মহামারি রূপে করোনার দাপট শুরু হয় দেশে; তখন সারা বিশ্বেই দেখা দেয় মানবিক সংকট। তৎকালীন সময়ে বাবার লাশ ধরেনি ছেলে, ছেলের লাশ দেখতেও যায়নি বাবা। এমন সংকটের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মানবিক ও জনবান্ধব রাজনীতির আইকনখ্যাত রাজনীতিবিদ হাশেম রেজা। তখন কোনো রাজনৈতিক নেতাকে কাছে না পেলেও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বাসিন্দারা সার্বক্ষণিক কাছে পেয়েছেন হাশেম রেজাকে। পেয়েছেন চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে বেঁচে থাকার জন্য দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও। অসংখ্য মানুষকে করেছেন গোপন সহযোগিতা। 

কর্মহীন অর্থাভাবে থাকা মানুষদের কাছে সে সময় ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হন হাশেম রেজা। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিনমজুর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা এখনো চুয়াডাঙ্গার সর্বমহলে ব্যাপক আলোচিত। কৃতজ্ঞতার ঢেঁকুর তুলছেন বাসিন্দারা। স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াও সে সময় তিনি অসচেতন মানুষদের সচেতন করার কাজ করেছেন অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। করেছেন সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণও। পরিস্থিতি এমনও হয়েছে, যেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল জেলা প্রশাসন; সেখানেও তিনি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন সহায়তা। তার সহায়তা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েনি কৃষক ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীও।

সমাবেশ ডাকলেই জনতার ঢল

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা এবং জেলা সদরের তিতুদহ, বেগমপুর, গড়ইটুপি এবং নিহালপুর ইউনিয়নসহ মোট ২০টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘শেখ হাসিনার নৌকায়, আমরা সবাই ভোট চাই’ স্লোগানে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্যে হাশেম রেজার ডাকা প্রতিটি সমাবেশেই নামছে জনতার উপচে পড়া ঢল। সম্প্রতি ওই আসনের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই সমাবেশ করেছেন তিনি। যেখানে জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। সমাবেশগুলোতে মূলত তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেই নৌকায় ভোট চাইছেন। আর আওয়ামী নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষও আসন্ন নির্বাচনে ওই আসনে পরিবর্তনের আশায় জানিয়েছেন স্বতস্ফূর্ত সমর্থন। 

এছাড়াও তিনি ওই আসনের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদেরও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারের উন্নয়ন এতদিন যতটা না বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছে সাধারণ মানুষ, তার চেয়ে বেশি জানিয়েছেন হাশেম রেজা। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে সবার দ্বারে দ্বারে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বহুমুখী উন্নয়নের তথ্য প্রচার করেছেন। যা অতীতে অন্য কেউই করেনি, কোনো নেতাও করেনি। শুধু তাই নয়, নির্বাচন শেষে নেতাদের আর তেমন দেখাও যায় না। কিন্তু হাশেম রেজাকে আমরা বিপদ-আপদে সবসময়ই কাছে পাই। তিনিই আমাদের জন্য একমাত্র সর্বজনীন।

বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রাজপথে সরব

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদফা দাবি আদায়ে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের নামে চলমান নৈরাজ্য, দেশবিরোধী আন্দোলন, অবৈধ অবরোধ ও হরতালের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা-২ নির্বাচনি এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করছেন হাশেম রেজা। সন্ধ্যা কিংবা রাতে বিএনপি-জামায়াতের চোরাগোপ্তা অগ্নি হামলা ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গায় মশাল মিছিলও বের করছেন তিনি। যাতে আগুন সন্ত্রাসীরা গাড়িতে আগুন দিতে না পারে। 

এছাড়াও আন্দোলনের নামে রাজধানীতে সহিংসতার সৃষ্টি করে পুলিশ খুনের মাধ্যমে দেশবিরোধী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশ, পথসভাও করছেন তিনি। যা সুসময়ের কোকিলখ্যাত আওয়ামী নেতাদের অনেককেই করতে দেখা যায়নি। স্থানীয়রাও তার শান্তি সমাবেশ ও পথসভায় সংহতি জানিয়েছেন। অংশও নিয়েছেন দলবদ্ধভাবে।

শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে বহু প্রাপ্তি

হাশেম রেজা, একজন সফল সংগঠকও। যিনি দক্ষতা আর সক্ষমতার জানান দিয়ে ইতোমধ্যেই বহু পদকে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে ২০০৪ সালে ‘জাগো যুবক পদক’ লাভ করেন তিনি। এ ছাড়াও ২০০৬ সালে ‘জাতীয় নজরুল সমাজ উন্নয়ন পদক’, ২০১২ সালে সাংবাদিকতায় ‘মানিক মিয়া পদক’, ২০১৩ সালে ‘মোনাজাত উদ্দিন পুরস্কার’ ও ভাষাসংগ্রামী আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ সম্মাননা-২০১৬ লাভ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, হাশেম রেজার প্রতিষ্ঠিত ‘হাশেম রেজা ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’ জেলার শ্রেষ্ঠ সামাজিক সংগঠকের পুরস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় পদকেও ভূষিত হয়েছে একাধিকবার।

Link copied!