পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
আগস্ট ২১, ২০২২, ০৭:৫৬ পিএম
জয়পুরহাটের পাঁচবিবির একমাত্র উচাই কৃষি কলেজ এমপিও হওয়ার ৩ বছর অতিবাহিত হলেও মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতায় বেতন পাচ্ছেনা শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘ ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বেতন না পেয়ে অতি কষ্টে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করছেন তারা। অপরদিকে দীর্ঘদিন চাকরি করেও বেতন না পেয়েই অনেক শিক্ষক-কর্মচারীকে বেতন ছাড়াই অবসর গ্রহণ করতে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখাযায়, প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও খেলাধুলার পরিবেশ খুব ভালো। এ প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে সফলতার সহিত উত্তীর্ণ হয়ে অনেকেই এখন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করছেন। জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অতিদ্রুত বেতন প্রদানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষর সুদৃষ্টি কামনা করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীগণ।
২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে সারাদেশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোট ২৭৩০টি এমনিও ভুক্ত করেন। এরমধ্যে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ৪৮৩টি। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত উচাই কৃষি কলেজও এমপিও ভুক্তর আওতায় আসে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৪ বছর মেয়াদে কৃষি ও মৎস্য ২টি অনুষদে মোট ২৭৩ জন শিক্ষার্থী পাঠদানের সুযোগ পায়। অধ্যক্ষসহ কলেজটিতে বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারী মোট ৪৬ জন।
বেতন ছাড়াই অবসর গ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র প্রশিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, কলেজটি এমনিও হলো কিন্তু বেতন ছাড়ায় অবসর গ্রহণ করতে হলো। বেতন পাব সংসার নিয়ে সুখে জীবন-যাপন করব সব আশা গুড়েবালি এমন আক্ষেপ তার। গণিত বিভাগের শিক্ষক আহমেদুজ্জামান আকন্দর স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী কত বছর ওই কলেজের শিক্ষকতা করল প্রতিষ্ঠানটি এমনিও হলো কিন্তু বেতন পাওয়ার আগেই জটিল রোগে সে মারা গেল।
প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা সুলতানা বলেন, ১৭ বছর যাবত বিনাবেতনে চাকুরী করছি এভাবে আর কত দিন চলা যায়। শিক্ষকতা করার কারণে সংসারের বোঝা ঠিকমত সামাল দেওয়া যায় না। বেতন না পাওয়াযায় টাকার অভাবে সন্তানদের ভালো কোথাও ভর্তিও করতে পারলাম না। বেতন অতিদ্রুত দেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষর প্রতি অনুরোধ করেন তিনি। রসায়ন বিভাগের আব্দুল হান্নান ও মৎস্য বিভাগে প্রশিক্ষক মামুনুর রহমান একই মন্তব্য করেন।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ রোস্তম আলী বলেন, দীর্ঘদিন পর আমাদের কলেজ এমনিও আওতায় এলেও প্রায় ৩৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বেতন পেলাম না। এমনিও পর বেতনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়া প্রতিটি শিক্ষক-কর্মচারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
আমারসংবাদ/এসএম