community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪,

সৌদিতে দুর্ঘটনায়

নিহত নোয়াখালীর ২ প্রবাসীর বাড়িতে শোকের মাতম

মো. মাসুম বিল্লাহ

মার্চ ২৯, ২০২৩, ১০:৩৩ এএম


নিহত নোয়াখালীর ২ প্রবাসীর বাড়িতে শোকের মাতম

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ বাংলাদেশির মধ্যে দুই প্রবাসীর বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ ও চাটখিল উপজেলায়। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন- চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের মিয়াজি বাড়ির মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন (৩৪) ও সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের মালেক মোল্লার বাড়ির শরিয়ত উল্লাহর ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম 

জানা যায়, গত বছর সৌদি আরব যান মো. হেলাল উদ্দিন। সেখানে তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে ওমরাহ করার জন্য চারজন এক সঙ্গে মক্কার উদ্দেশে রওনা হলে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের ৩ জনই মারা যান। ২ ভাই আর ২ বোনের মধ্যে সবার বড় হেলাল। তার তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

হেলালের ছোট ভাই মো. রিপন বলেন, হেলাল ভাইয়ের কোম্পানির ৪ জনের মধ্য ৩ জনই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মৃত্যুর খবরে বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবা-মা বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন।

চাটখিলের রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ (বাহার) বলেন, নিহতের খবর বাড়ি পৌঁছামাত্রই শোকের মাতম শুরু হয়েছে। লাশ দেশে নিয়ে আসার বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। দূতাবাসের সহায়তা ও পরামর্শক্রমে লাশ দেশে আনা হবে নাকি সে দেশে দাফন করা হবে এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ২ ভাই ১ বোনের মধ্যে সবার বড় মো. শহিদুল ইসলাম। গত বছরের এপ্রিল মাসে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব যান শহিদুল। সেখানে একটি দোকানে কাজ করতেন। ওমরাহ পালনের জন্য মক্কা নগরীর উদ্দেশে কর্মস্থল থেকে রওনা হলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন শহিদুল।

নিহত শহিদুলের চাচা বাবুল বলেন, মৃত্যুর খবর শুনে আমাদের বিশ্বাস হয়নি। কিছুদিন আগে ভিডিও কলে বলেছিল, ঈদে সবার জন্য কেনাকাটা করতে টাকা পাঠাবে। কিন্তু তার আগেই আল্লাহ তাকে না ফেরার দেশে নিয়ে গেল।

সেনবাগের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম (ভূঞা) বলেন, ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গিয়ে শহীদুল আজ কফিনবন্দী। তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। মরদেহ আনতে তার পরিবার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় আসির প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২ ওমরাহ যাত্রীর মধ্যে ১৪জন বাংলাদেশি। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৭ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওমরাহ যাত্রীদের বহনকারী ওই বাস আসির প্রদেশের আকাবা শার এলাকার একটি সেতুর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে বাসটি উল্টে যায় ও একপর্যায়ে সেটিতে আগুন ধরে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বাসের আরোহীরা ওমরাহ পালনের উদ্দেশে মক্কায় যাচ্ছিলেন। বাসের ব্রেক কাজ না করায় একটি সেতুর ওপর উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়। বাসে মোট ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৫ জন বাংলাদেশি। দুর্ঘটনায় মোট ২২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আরএস

Link copied!