community-bank-bangladesh
Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪,

জয়পুরহাটে বাড়ছে ভুট্টার আবাদ

গোলাপ হোসেন, জয়পুরহাট

গোলাপ হোসেন, জয়পুরহাট

মে ২০, ২০২৩, ০৬:২২ পিএম


জয়পুরহাটে বাড়ছে ভুট্টার আবাদ

জয়পুরহাট জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য সোনালি মুরগি। এ জেলায় পোল্ট্রি শিল্পকে ঘিরে ১১টি ফিড মিল গড়ে উঠেছে। এসব ফিড মিলের ফিড তৈরির কাঁচামালের প্রধান উপকরণ ভুট্টা। এছাড়া জেলায় হাজার হাজার গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়। সেই গোখাদ্যের জন্য ভুট্টার প্রয়োজন হয়। যার ফলে দিনে দিনে বাজারে ভুট্টার দাম ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে জেলায় ভুট্টার আবাদ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবছর ভুট্টা চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অন্য ফসলের তুলনায় খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। ২০২২-২০২৩ রবি মৌসুমে ৭৮৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এ বছর প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর থেকে জেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভুট্টার চাষ। বাজারে চাহিদা বেশি হওয়ায় বেড়েছে এই চাষ। অন্য ফসলের চেয়ে রোগবালাই ও উৎপাদন খরচ কম। আবার বাজারে ভালো দামও পাওয়া যায়। তাই অনেকে অন্য ফসল বাদ দিয়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এক বিঘাতে ১৮/২০ মণ পর্যন্ত ফলনও পাওয়া যায়। এবার প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৮/১০ হাজার টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের মাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। সদর, পাঁচবিবি ও আক্কেলপুর উপজেলায় ভুট্টার চাষ বেশি হয়। পোল্ট্রি শিল্পের মূল উপাদান ভুট্টা। আর ভুট্টা চাষে অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিনে দিনে ভুট্টা আবাদ জনপ্রিয় হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। বিএডিসির পক্ষ থেকে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ভুট্টার বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে,জয়পুরহাটের সদর উপজেলার দোগাছী, ভাদসা, দাদরা, জামালপুর, আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ, জিয়াপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে এবার ভুট্টার চাষ করেছেন কৃষকরা। 
 
জয়পুরহাট সদর উপজেলার দাদরা গ্রামের মোখলেছুর রহমান বলেন, গত বছর ১ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। সেখানে ভালো লাভ হওয়ায় এ বছর ২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টা চাষ করে বিক্রি করা হয়। সেই সঙ্গে ভুট্টার মোচা সংগ্রহের পর গাছের অবশিষ্ট অংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যা বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় হয়।

সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ভুট্টার চাষে সেচ খরচ যেমন কম, তেমনি রোগবালাই আর পোকা মাকড়ের আক্রমণও কম। আবার পোল্ট্রি, মৎস্য ও গোখাদ্য হিসেবে ভুট্টার চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।

পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জি গ্রামের লিটন হোসেন বলেন, ভুট্টা চাষে তেমন ঝামেলা নেই। এবার আড়াই বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশাকরছি এবার ভুট্টার ভালো দাম পাবো।

পাঁচবিবি উপজেলার নন্দইল গ্রামের আরেক কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, জয়পুরহাট জেলায় অনেক পোল্ট্রি খামার রয়েছে, যার জন্য ভুট্টার চাহিদা অনেকটা বেড়েছে। তাছাড়া অন্য ফসলের চেয়ে ভুট্টা অনেক লাভজনক ফসল।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। মুরগি খাদ্য ও মাছের খাদ্য তৈরির জন্য জয়পুরহাটের ফিডমিলগুলোকে জেলার বাহির থেকে ভুট্টা আমদানি করতে হয়। আবার গোখাদ্য জন্যও ভুট্টা বাহির থেকে আমদানি করতে হয়। আমদানি রোধে ভুট্টার আবাদ বাড়াতে জেলায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুট্টা চাষ আরও বৃদ্ধি করতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।

আরএস

Link copied!