ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

কালীগঞ্জের চর এলাকায় ভেড়া পালনে সফল ক্ষুদ্র খামারিরা

সেলিম শাহরিয়ার, কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা)

সেলিম শাহরিয়ার, কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা)

জুন ১০, ২০২৩, ০৬:১৭ পিএম

কালীগঞ্জের চর এলাকায় ভেড়া পালনে সফল ক্ষুদ্র খামারিরা
কালীগঞ্জের চর এলাকায় ভেড়া পালনে সফল ক্ষুদ্র খামারিরা।

কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভেড়া পালনে সফলতার মুখ দেখছেন খামারিরা। চরের নারীরা পশু পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পরিবেশ পশু পালনের উপযোগী হওয়ায় এলাকার নারীরা ভেড়া পালনে সফলতা পেয়েছেন। প্রত্যেকের সাফল্য দেখে অন্য একজন অনুপ্রাণিত হয়ে ভেড়া পালনের উদ্যোগ নেন। এই সব চারণ এলাকায় ভেড়ার খামারও কম নয়। কম খরচে ভেড়ার চাষ দিন দিন বাড়ছে।

সন্ন্যাসীর চকের চাষি পারভীন বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘাসের অভাব নেই, সারাদিন তারা চকা চকে থাকে, গরু বাছুরসহ একসঙ্গে ঘাস খায়, বিকেলে দলে দলে বাড়ি আসে। চলো গিয়ে আবার অনেকবার নিয়ে আসি।" ভেড়া কেবল ঘাস খেয়েই বাঁচতে পারে। এ ছাড়া দানা (ভুসি) খাদ্য সরবরাহ করলে উৎপাদন ভালো হয়। তাই ভেড়ার জন্য বাড়তি কোনো পরিশ্রম করতে হয় না বরং লাভ বেশি বলে জানান তিনি।

তবে শুরুতে ভেড়া পালন খুব একটা সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন ভেড়া পালনকারীরা। কারণ ভেড়া পালনকে কেউ স্বাগত জানাবে না। যাইহোক, যারা অনুসরণ করেছিল তাদের সাফল্য দেখে লোকেরা এই ধারণা পরিবর্তন করতে শুরু করে। চর এলাকার কৃষক পারভীন বেগম প্রথম ভেড়া পালন শুরু করেন। তিনি বলেন, "বিয়ের পর আমি আমার বাবার বাড়ি থেকে পালানোর জন্য দুটি ভেড়া নিয়ে এসেছি। ওই দুটি ভেড়া থেকে আমার বর্তমান ভেড়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫টি।" তিনি একটি ছোট খামার গড়ে তোলেন।তার কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই ধীরে ধীরে ভেড়া পালন শুরু করেন।২০১২ সালে ৩ জন খামারি ভেড়ার খামার শুরু করলেও বর্তমানে সুন্দর খালি, বাসুখালী, চর-বড়িয়া, কাজলা-জাহেদাবাদ, গোলখালী, দক্ষিণ শ্রীপুর চর, গোবিন্দকাটি এলাকার মানুষ। , রামনগর গ্রামেও ছোট ছোট ভেড়ার খামার গড়ে উঠেছে। প্রতিটি গ্রামের কৃষকের বাড়িতে ৫-২৫টি ভেড়া রয়েছে।

ভেড়া পালনের সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও রয়েছে, ভেড়া পালনকারীরা বলছেন। বিশেষ করে ভেড়াগুলো অসুস্থ হলে বা রোগে আক্রান্ত হলে সহজে চিকিৎসা করা যায় না। চর এলাকার ভেড়া পালন খামারিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, চরে অনেক ভেড়া পালনকারী খামারি রয়েছে। কিন্তু ভেড়া অসুস্থ হলে ডাক্তার পাওয়া যায় না, তাই দোকান থেকে ভেষজ চিকিৎসা ও ওষুধ কিনে আনা হয়। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ভেড়ার মধ্যে রোগবালাই বেশি দেখা যায়। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে সর্দি, দাদ, খোসপাঁচড়া, মাস্টাইটিস, চর্মরোগ, কৃমি, বাহ্যিক পরজীবী, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা ইত্যাদি।

ভেড়া একটি নিরীহ প্রাণী। তারা ঘাস খাওয়ার জন্য চারণভূমিতে ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করে এবং দলে দলে বিচরণ করে। ১৫ মাসে বাছুর ২ বার এবং একটি ভেড়া বাছুর ২ থেকে ৫ বার। কালীগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন বিপুল সংখ্যক মানুষ এসব ভেড়া পালন করে বসবাস করছেন। এই ভেড়া পালন কর্মসূচি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৃষকদের এই উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতে সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এ ছাড়া ভেড়াসহ অন্যান্য গবাদিপশু অসুস্থ হলে খামারিরা যাতে সহজে চিকিৎসা পেতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। তাই ভেড়া পালনকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই পেশাকে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করতে সরকারের প্রাণী সম্পদ বিভাগসহ কর্তৃপক্ষ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

আরএস

 

Link copied!