Amar Sangbad
ঢাকা শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪,

প্রশসংসায় ভাসছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

কুড়িগ্রামে স্বাধীনতার মাসে জাতীয় পতাকার আদলে ধানক্ষেত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

মার্চ ২৭, ২০২৪, ০৭:৫২ পিএম


কুড়িগ্রামে স্বাধীনতার মাসে জাতীয় পতাকার আদলে ধানক্ষেত

মহান স্বাধীনতার মাসে ধান ক্ষেতের মাঝে চারা গাছ দিয়ে জাতীয় পতাকার প্রতিচ্ছবি ফুটে তুলেছে কুড়িগ্রাম উলিপুরের শিক্ষক আবু জাফর(৩৫)। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষি কাজকে খুব ভালোবাসেন। তার নিজের জমিতে জাতীয় পাতকার আদলে ধানক্ষেত তৈরি করে প্রশংসায় ভাসছেন ঐ শিক্ষক।

স্কুল শিক্ষক আবু জাফর সাদিক এর বাড়ি উলিপুর উপজেলার পৌরসভার পূর্ব নাওডাঙ্গা বাকরের হাট এলাকার আবু বকর সিদ্দিক এর পুত্র। তিনি উলিপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়,বাকরের হাট এলাকার পূর্ব দিকে উলিপুরগামি সড়কের পাশে ধানের জমিতে ধান গাছ দিয়ে তৈরি জাতীয় পতাকা দেখে চোখ আটকে যায় এলাকাবাসী ও পথচারীদের।

Displaying national flag photo-02.jpg

আবু জাফরের এক একর ত্রিশ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন।এর মধ্যে ক্ষেতের এক শতক জমি জুড়ে ফুটে উঠেছে সবুজ রঙের চারা দিয়ে  জাতীয় পতাকার প্রতিচ্ছবি, জমির আইলের পাশ দিয়ে বেগুনি ধান গাছের চারা রোপন করে ফুটিয়ে তুলেছেন পতাকার খুঁটি। বিরি-১০৪ জাতের ধানের সবুজ চারাকে পতাকার জমিন ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ বেগুনি ধানের চারাকে বৃত্ত ও পতাকার খুঁটি স্বরুপ সারিবদ্ধ ভাবে রোপন করেছেন তিনি।প্রথমের দিকে ধান গাছের পাতায় সমৃদ্ধ রঙ না আসায় স্পষ্ট চিত্র বুঝা না গেলেও বর্তমানে ধান গাছের পরিপক্বতার কারনে দৃশ্যমান হয়েছে ক্ষেতটি।এমন ব্যতিক্রমি পতাকার আদলে ধান ক্ষেত দেখতে প্রতিদিন লোকজন ছুটে আসছেন।

আবু জাফর বলেন,আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষি চাষাবাদ করে থাকি।দেশের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ব প্রকাশে মানুষজন বিভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়। তেমনি আমিও চেষ্টা করছিলাম মাত্র।স্বাধীনতার মাসে জাতীয় পতাকার আদলে করা ধানক্ষেতটি দৃশ্যমান হওয়ায় মানুষজনের দেখার আগ্রহ বেড়েছে।

ধান ক্ষেত দেখতে আসা মো. ফজলু বলেন,মানুষজন দেশের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই মুলত ব্যতিক্রমী কাজ করে থাকে।আবু জাফর ভাইয়ের জাতীয় পতাকার আদলে করা ধানক্ষেতটি সত্যি প্রশংসনীয়।এমন দৃশ্য দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।এটি দেখে অনেকের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে বলে জানান তিনি।

সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো, সিয়াম বলেন, আমি বিভিন্ন কারুকার্য বইয়ের পাতা ও কাপড়ের তৈরি, পাথরের তৈরি সাজানো পতাকা দেখেছি। তবে ধানের চারা লাগিয়ে যে জাতীয় পতাকার প্রতিচ্ছবি বানানো যায় তা প্রথম দেখলাম সত্যি ভালো লাগলো।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ- পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, একজন কৃষক দেশের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে জমিতে জাতীয় পতাকার আদলে যে শস্যচিত্র ফুটিয়ে তুলেছে সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষি বিভাগ সব সময় পাশে থাকবে বলে জানান।

বিআরইউ

Link copied!