ফেনী জেলা প্রতিনিধি:
জুন ৫, ২০২৪, ০১:৫১ পিএম
ফেনীতে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আতিকুল ইসলাম নিশান (১৩) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ জুন) শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুল চিকিৎসার জন্য অভিযুক্ত ওই এনেস্থিসিয়া ও অপারেশন ডাক্তারের বিচার দাবি করেছে নিহত শিশুটির পরিবার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণ মুহাম্মদপুর গ্রামের প্রবাসী শহীদুল্যাহর ছেলে ও স্থানীয় ভুঞা দিঘি হাফেজিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগে ছাত্র নিশানের গলায় টনসেল দেখা দিলে গত ২৬ মে ওই উপজেলার সেবারহাট মেডিকেল সেন্টারে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ কিশোর কুমার হাওলাদারের চেম্বারে নিয়ে যান পিতা।
সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা- নিরীক্ষার শেষে ফেনীর ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে এনে অপারেশন করার পরামর্শ দেন ওই চিকিৎসক ।
এরপর সোমবার (৩জুন) বিকাল ৪টায় নিশানকে ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করান শিশুটির পরিবার।
একইদিন রাত ১০টার দিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এনেস্থিসিয়া দেন ওই ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক নাজমুল হক ভুঞা। এরপর টনসিল ইকোটমি অপারেশন করেন ডাঃ কিশোর কুমার।
শিশুটির পরিবারের দাবি, অপারেশনের ৬ঘন্টা পর অর্থাৎ ভোর ৪টার দিকে দ্রুত রেফার করে আইসিইউতে নেয়ার পরামর্শ দেয় ডাঃ নাজমুল হক। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে কুমিল্লা মডার্ণ হসপিটালে নেয়ার পর সেখানকার আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইয়াছিন আরাফাত জানিয়েছেন রোগীর ভুল চিকিৎসা হয়েছে। তাছাড়া আইসিইউতে ভর্তির আগেই নিশানের মৃত্যু হয়েছে।
নিশানের পিতা শহীদুল্যাহ বলেন, আমার ছেলে সুস্থ স্বাভাবিক ছিল। টনসিল অপারেশন করলে মারা যায়, এটা জানলে অপারেশন করাতাম না। ডাক্তারের ভুলে আমার ছেলে মারা গেছে।
তাছাড়া দুপুরে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে ওয়ান স্টোপস ক্লিনিক ঘেরাও করেন নিশানের স্বজনরা।
তাদের দাবি , ছেলেটি বিকালে হেঁটে ক্লিনিকে এসেছে। টনসিলের সমস্যা ব্যতীত তার শরীরে কোন রোগ ছিল না। এনেস্থিসিয়া যিনি দিয়েছেন (ডাক্তার নাজমুল হক ) তার ওই বিষয়ে কোন ডিগ্রি নেই। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এনেস্থিসিয়া ও অপারেশনের ত্রুটির কারণেই নিশানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তার স্বজনদের।
পরে বিকাল তিনটার দিকে ফেনী মডেল থানার ওসি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।এব্যাপারে তাৎক্ষণিক তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নিহতের পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে পালিয়ে যাওয়ায় ডাক্তার কিশোর কুমারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি অস্বীকার করে ডাক্তার নাজমুল হক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরতে দেরি হওয়ায় আমি আইসিইউতে রেফার করেছি।
বিআরইউ