ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

সন্তান বিক্রি করা লালনের হাতে অটোরিকশা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৫:৫০ পিএম

সন্তান বিক্রি করা লালনের হাতে অটোরিকশা

অভাবের তাড়নায় একসময় দুই সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লালন মিয়া। আজ সেই লালনের হাতে তুলে দেওয়া হলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বনির্ভর জীবনের পথে ফেরার প্রতীক হিসেবে।

সরকারের ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় লালন মিয়াসহ সাতজন ভিক্ষুক পেলেন নতুন জীবিকার উপকরণ। কেউ পেলেন ছাগল, কেউ পেলেন ভ্যান, আবার কেউ পেলেন ছোট দোকান করার সামগ্রী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন উপকারভোগীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফাহিমুল আরেফিন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক সবুজ, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবাকর্মীরা।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাতজনের মধ্যে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লালন মিয়া পেয়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, আয়েশা বেগম পেয়েছেন প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রির জন্য ভ্যান, হোসনা বেগম পেয়েছেন মুদি দোকানের মালামাল, জয়রানী দেবনাথ ও রুপবানু বেগম পেয়েছেন তিনটি করে ছাগল, বিষ্ণু সরকার পেয়েছেন দুই মটকা চেপা সুটকি, এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রুশন আলী পেয়েছেন মুদি দোকানের মালামাল।

উপকরণ পেয়ে আবেগাপ্লুত লালন মিয়া বলেন, অভাবের কারণে দুইটা সন্তান বিক্রি করেছিলাম। এখন সরকার আমাকে রিকশা দিয়েছে। এই রিকশা চালিয়ে আমি পরিবার নিয়ে বাঁচব। ভিক্ষা করতে হবে না।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রুশন আলী বলেন, ২০ বছর ধরে ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছি। কেউ সাহায্য করে নাই। সমাজসেবা অফিস এখন মাল কিনে দিয়েছে, আমার স্ত্রী দোকান চালাবে। আল্লাহ চাইলে আর ভিক্ষা করতে হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন বলেন, "ভিক্ষাবৃত্তি কোনো পেশা নয়, এটি সামাজিক অভাবের প্রতিফলন। আমরা চাই কেউ যেন ভিক্ষা না করে, নিজের পরিশ্রমে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে। এই কর্মসূচি সেই লক্ষ্যেই নেওয়া।"

তিনি আরও বলেন, ভিক্ষুকদের কর্মে ফেরাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান, দোকানের মালামাল ও অন্যান্য উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। বিতরণকৃত উপকরণগুলো যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, তা নিয়মিত তদারকি করা হবে। যারা আন্তরিকভাবে ব্যবসা শুরু করবে, তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।

জিএইচআর

Link copied!