মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট
জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত কয়েক দিনের টানা ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে জেলার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নদীপাড়ের চর এলাকা ও গ্রামীণ জনপদের নিম্ন আয়ের মানুষ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জেলাসদরের বড়বাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ শিবরাম এলাকার ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ আচান আলীর জীবন এখন কাটছে চরম মানবেতর অবস্থায়। এক সময়ের শ্রমিক আচান আলী এখন বয়সের ভারে অক্ষম। একটি ছেঁড়া চাদর আর পুরনো পাতলা কাঁথাই তার একমাত্র সম্বল। ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গরিব হওয়ায় হয়তো শান্তিতে বাঁচার অধিকারটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। দুই বছর আগে একটা কম্বল পেয়েছিলাম, এবার চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে গিয়েও দেখা পাইনি।”
একই চিত্র কুলাঘাট ইউনিয়নের বনমালি এলাকায়। ৭৮ বছর বয়সী সোনাভান বেগম ও বাছরন বিবির মতো অসংখ্য প্রবীণ মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি কম্বল জোটেনি তাদের কপালে।
কুলাঘাট ও বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে ৫ হাজারের বেশি শীতার্ত মানুষ থাকলেও সরকারি বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য। চাহিদার তুলনায় কম্বল কম হওয়ায় তারা বিতরণ কার্যক্রমে হিমশিম খাচ্ছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার জেলায় তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মাসে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে জেলায়। লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সামিরা হোসেন চৌধুরী জানান, হাসপাতালে সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুদের গরম খাবার দেওয়া এবং বয়স্কদের উষ্ণ পরিবেশে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, জেলাজুড়ে ইতোমধ্যে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং শীতার্তদের সহায়তায় প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।
জেএইচআর