ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের মুখোমুখি সন্ত্রাসীরা: র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামির ‘জনবিস্ফোরণ’

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের মুখোমুখি সন্ত্রাসীরা: র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার আসামির ‘জনবিস্ফোরণ’

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর, নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুর্গম পাহাড় আর রহস্যময় এক বসতির চিত্র। গত সোমবার এ এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় প্রাণ হারান র‍্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। 

এ ঘটনার পর পুরো এলাকা যখন থমথমে, ঠিক তখনই গত বুধবার প্রকাশ্যে এসে প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৯ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় ইয়াসিন দাবি করেন, জঙ্গল সলিমপুরে ঢালাওভাবে কোনো গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে দেওয়া হবে না। 

তার ভাষায়, ঝামেলা করলে বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।

জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে বসে ইয়াসিন এ বক্তব্য দেন। ভিডিওতে তাকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়। 

তিনি বলেন, কাউকে ধরতে হলে অভিযানের আগে আসামির নাম ঠিকানা প্রশাসনকে জানাতে হবে। ক্রাইমের ফান্দে পা দিয়ে ঝামেলা করলে জনবিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে না। 

তিনি আরও দাবি করেন, জঙ্গল সলিমপুরের জায়গা তাদের ক্রয় করা সম্পত্তি এবং সেখান থেকে তাদের কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। এমনকি সাবেক এক জেলা প্রশাসকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উচ্ছেদ করতে গিয়ে সেই কর্মকর্তা নিজেই এখন ‘উধাও’ হয়ে গেছেন।

গত সোমবার বিকেলে যখন র‍্যাব সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরে আসামি ধরতে যান, তখন মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এজাহার অনুযায়ী, সন্ত্রাসীরা কেবল হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা র‍্যাবের হাতে থাকা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয় এবং চারজন র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। 

পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশাল বহর গিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে র‍্যাব। মোহাম্মদ ইয়াসিন ছাড়াও মামলার অন্যতম আসামি হলেন নুরুল হক ভান্ডারী।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পশ্চিমে ৩,১০০ একর জায়গা জুড়ে এ জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। ভৌগোলিকভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলায় পড়লেও এটি মূলত নগরীর অত্যন্ত কাছে। গত চার দশক ধরে এখানকার সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ বসতি। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্গম পাহাড় কেটে এখানে এক বিশাল ‘প্লট বাণিজ্য’ গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ বাণিজ্য এবং অবৈধ দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে নিজস্ব ‘সশস্ত্র বাহিনী’ তৈরি করা হয়েছে। পুরো এলাকাটি চব্বিশ ঘণ্টা পাহারায় থাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের। এটি এখন কেবল বসতি নয়, বরং সন্ত্রাসীদের একটি নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুরে সহিংসতার ইতিহাস নতুন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে গুরুতর লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক। ইয়াসিন তার বক্তব্যে বর্তমান অস্থিরতার জন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক নেতা (বহিষ্কৃত) রোকন উদ্দিনকে দায়ী করেছেন।

র‍্যাবের একজন পদস্থ কর্মকর্তাকে হত্যার পর প্রধান আসামির এমন প্রকাশ্য হুমকি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ইয়াসিন যেভাবে ‘জনবিস্ফোরণের’ ভয় দেখাচ্ছেন, তা মূলত পাহাড়ে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের একটি অপকৌশল। পাহাড় খেকো এবং প্লট ব্যবসায়ীদের এ সিন্ডিকেট ভেঙে না ফেললে চট্টগ্রামের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত এ পাহাড়গুলো যেমন ধ্বংস হবে, তেমনি জননিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে। জঙ্গল সলিমপুর এখন আর কেবল একটি দুর্গম এলাকা নয়, এটি এখন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বনাম অপরাধী চক্রের এক মুখোমুখি লড়াইয়ের ময়দান। 

র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার বিচার এবং পাহাড় দখলমুক্ত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ‘জনবিস্ফোরণের’ হুমকি মোকাবিলায় কী ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইএইচ

Link copied!