আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ১৫, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ব্যাংকিং সেবার বিভিন্ন খাতে নতুন করে ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে।
পাশাপাশি বর্তমানে বিনা খরচে পাওয়া ১৪টি সেবায় নতুন ফি আরোপ এবং বিদ্যমান বিভিন্ন চার্জ বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমানতকারীরা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি হয়- এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
দেশে ব্যাংকিং লেনদেনের পরিমাণ প্রতিদিনই বাড়ছে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে ব্যাংকিং সেবাও। সঞ্চয়, অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন সেবায় গ্রাহকদের খরচ বেড়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে আরও কয়েকটি সেবায় চার্জ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংকগুলো।
এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন গ্রাহক মাসে সর্বোচ্চ তিনবার ব্যাংকের কাউন্টার থেকে বিনা ফিতে টাকা তুলতে পারবেন। এর বেশি প্রতিবার টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি গুনতে হবে। এছাড়া দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যাংক হিসাব পুনরায় সচল করতে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ প্রক্রিয়াকরণ মাশুলও বর্তমানের তুলনায় প্রায় চার গুণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
শুধু নতুন ফি নয়, এতদিন বিনামূল্যে দেওয়া ১৪টি ব্যাংকিং সেবার বিপরীতেও চার্জ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংকগুলো। পরিচালন ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে রেখে এসব সুপারিশ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ এবং ছোট গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। এতে অনেকেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আবু নাসের বখতিয়ার বলেন, চার্জের হার কমবেশি হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে এসব হার কমিয়ে দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান শহীদুল জাহীদ বলেন, প্রস্তাবিত চার্জের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে অনীহা তৈরি হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর প্রস্তাব তারা পেয়েছে। তবে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি ও অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি হয়- এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চার্জের বোঝা চাপানো হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
এদিকে সাধারণ আমানতকারীদের দাবি, ব্যাংকিং সেবার চার্জ বাড়ানোর পরিবর্তে তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় সহজে অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এএন