বেলাল হোসেন মিলন, বরগুনা
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরগুনার দুটি সংসদীয় আসন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনী প্রচার শুরু পর শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার ও উপকূলীয় চরাঞ্চল, সবখানেই বিএনপির নেতাকর্মীদের তৎপরতা চোখে পড়ছে।
মোড়ে মোড়ে সাঁটানো হয়েছে ব্যানার-পোস্টার, রাস্তায় চলছে মাইকিং। প্রার্থীরা জনসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং অবহেলিত এ জনপদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দলীয় সক্রিয় নেতাকর্মী কম থাকায় তাদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না।
তবে এ দৃশ্যমান ব্যস্ততার আড়ালে সাধারণ ভোটারদের আচরণে স্পষ্ট এক ধরনের নীরবতা। প্রকাশ্যে কথা কম, অবস্থান জানানোর আগ্রহও সীমিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরগুনার দুই আসনেই এ নীরব ভোটাররা শেষ পর্যন্ত বিজয়ের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন। দীর্ঘ সময় পর তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আবহ তৈরি হওয়ায় বরগুনার রাজনীতিতে নতুন গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে। পাশাপাশি ১০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় থাকায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা দলীয় সাংগঠনিক শক্তি ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংক ও নিয়মিত গণসংযোগকে মূল শক্তি হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী জামাল হোসেনও ভোটারদের মনোযোগ কাড়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বরগুনা সদরে জামায়াতের প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসনটি উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জেলে-কৃষকদের জীবনসংগ্রামের ইস্যুগুলো এখানে প্রভাব ফেলছে।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ নুরুল ইসলাম মনি শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার বিপরীতে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আলহাজ মো. সুলতান আহমেদ। ব্যক্তিগত ইমেজ ও দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততাকে পুঁজি করে তিনি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন।
এ ছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ একাধিক প্রার্থী সক্রিয় থাকায় ভোটের হিসাব জটিল হয়ে উঠেছে।
বরগুনার দুটি আসনেই ভোটাররা প্রকাশ্যে অবস্থান জানাতে অনাগ্রহী হলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি, শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নীরব ভোটারদের রায়, এ তিনটি বিষয়ই বরগুনার দুই আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
ইএইচ