ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থান

১৪০০ নিহতের সংখ্যাকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার চিঠি

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

মে ৩০, ২০২৬, ১১:০১ এএম

১৪০০ নিহতের সংখ্যাকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার চিঠি

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) দেওয়া প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ ও ‘অত্যন্ত ভুল’ আখ্যা দিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি গণমাধ্যম এনডিটিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্যটি সামনে এনেছে।

এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের আইনজীবী স্টিভেন পাউলস কেসির মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ককে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন শেখ হাসিনা।

গত ২৮ মে পাঠানো ওই চিঠিতে আইনজীবী পাউলস দাবি করেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত। এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে চিঠিতে বলা হয়:

ওএইচসিএইচআর যেখানে ১,৪০০ জনের কথা বলছে, সেখানে খোদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫-এর অফিশিয়াল গেজেট অনুযায়ী এই সংখ্যাটি ৮৩৪ জন। যা জাতিসংঘের দাবির প্রায় অর্ধেক।

এমনকি আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব হিসেবেও নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৫০ জন।

আইনি দলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিহতের এই সংখ্যাকে বড় করে দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা মূলত তার সরকার পতনের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

চিঠিতে জাতিসংঘের এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও গভীর সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। যেহেতু এই তদন্তটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনার আইনজীবী। চিঠিতে ড. ইউনূসের পূর্বের একটি বক্তব্য টেনে বলা হয়, তিনি নিজেই এই আন্দোলনকে একটি ‘সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল অপারেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে এমন একটি প্রশাসনের অধীনে হওয়া তদন্ত কখনো পক্ষপাতহীন হতে পারে না, যাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ ট্রাইব্যুনাল তাকে ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। শেখ হাসিনার আইনি দল অবশ্য শুরু থেকেই এই পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছে।

আইনজীবী স্টিভেন পাউলস এর আগেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গ্রেপ্তার ও সহিংসতা নিয়ে আইসিসি এবং জাতিসংঘে আবেদন করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়।

চিঠির শেষ অংশে, জাতিসংঘকে এই ‘ভুল তথ্য’ সংশোধন করে একটি আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিশ্বসংস্থাটি কোনো ‘মিথ্যা বয়ান’ ছড়ানোর হাতিয়ারে পরিণত না হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওএইচসিএইচআর-এর পক্ষ থেকে এই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি।

এএন

Link copied!