মিরাজ আহমেদ, মাগুরা
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
কৃষি খাতে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত পার্টনার-ডিএএম প্রকল্পের ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ঘিরে মাগুরায় অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে আসছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. রফিকুল ইসলাম।
এর আগে জানুয়ারিতে দুদক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, যা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন। প্রকল্প নির্দেশিকা অনুযায়ী ১২ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা। খাবার, উপকরণ, ভাতা ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা সরকারি বরাদ্দ থেকেই দেয়ার বিধান রয়েছে।
মাগুরায় চলমান একটি ব্যাচের ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানুয়ারিতে দুদক ড্রিম মাশরুম ভ্যালিতে অভিযান চালায়। প্রশিক্ষণ সঠিকভাবে না হওয়া এবং নীতিমালার বাইরে অর্থ আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।
মাশরুম চাষে সাফল্যের কারণে ‘মাশরুম বাবুল’ নামে পরিচিত বাবুল আক্তার বলেন, প্রতি প্রশিক্ষণে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার বিল হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী উত্তোলন করেছি। তবে প্রশিক্ষক হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের নথি দেখাতে পারেননি।
তদন্ত চলাকালে প্রকল্পের ডিপিটি রশিদুল ইসলাম, মাগুরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিক জানান, প্রশ্ন তুললে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয়। রবিউল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণ যেভাবে হওয়ার কথা, সব জায়গায় শতভাগ মানা সম্ভব হয় না। কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিক মিরাজ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলার উদ্যোগ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোন ও সামাজিক মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন।
জেএইচআর