মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তে উদ্ধার হওয়া আফগান নাগরিক হাশমত মোহাম্মাদির মরদেহ ঘিরে হৃদয়স্পর্শী এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। ছোট ভাইয়ের লাশ নিজ দেশে নিতে বড় ভাই মীর ওয়ার্সী লন্ডন থেকে ছুটে এসে গত শুক্রবার মহেশপুর থানায় উপস্থিত হন। ঢাকায় পৌঁছে যশোর হয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি মহেশপুরে এসে তিনি একটাই আবেদন জানান কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে আফগানিস্তানে নিয়ে গিয়ে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পুনরায় দাফনের সুযোগ করে দিতে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল পলিয়ানপুর সীমান্তসংলগ্ন ইছামতি নদী থেকে অজ্ঞাত এক মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি হাশমত মোহাম্মাদির বলে নিশ্চিত হন। নিহত হাশমত দীর্ঘদিন ইতালিতে বসবাস করতেন এবং সীমান্তপথে বাংলাদেশ হয়ে ইউরোপে ফেরার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই টিপু সুলতান জানান, প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে মীর ওয়ার্সী মহেশপুর থানায় অবস্থান করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক। নিহতের পরিবারের আবেদন গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তরের জন্য আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।”
সীমান্তপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, এক বিদেশি নাগরিকের রহস্যজনক মৃত্যু এবং পরিবারের আকুতিতে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে একজন ভাইয়ের প্রতি আরেক ভাইয়ের দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসাই এই ঘটনার সবচেয়ে মানবিক দিক হয়ে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
এএন